বর্ষার মৌসুমে বাঁশের তৈরি মাছ ধরার ছাই ‘পলো”র কদর বেশী

শফিউল আলম, রাউজান: নদী-খাল-বিলের ছোট মাছ ধরার জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ এক ধরনের ফাঁদ। গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার আদি উপকরণের মধ্যে বাঁশের শলা ও বেত দিয়ে তৈরি ছাই, পলো বা পঁলুই সবচেয়ে জনপ্রিয়।অঞ্চলভেদে নামের ভিন্নতা থাকলেও মাছ ধরার উপকরণ হিসেবে বর্ষার মৌসুমে বর্ষন হলে খাল বিলে বাশের তৈয়ারী ছাই, জুরকা বসিয়ে এলাকার লোকজন মাছ ধরে। বর্সার মৌসুমে খাল বিলে বন্যা হলে খালের ও বিলে এলাকার বাসিন্দার বাশ বেত দিয়ে তৈয়ারী পলো দিয়ে খাল বিলে পানিতে নেমে পলো মাছ ধরে। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হাট বাজারে বর্ষার মৌসুমে মাছ ধরার জন্য বাশ দিয়ে তৈয়ারী ছাই, পলো বিক্রয় করা হয়। বর্ষার মৌসুমে বাশ দিয়ে তৈয়ারী পলো ও ছাই এর কদর বেশী। হাট বাজার থেকে এলাকার বাসিন্দারা বাশের তৈয়ারী ছাই ও পলো ক্রয় করে নিয়ে যায় ।

বিভিন্ন আকার ও আঙ্গিকে তৈরি মাছ ধরার যন্ত্রকে ছাই, পলো বর্সার মৌসুমে রাউজানের হাট বাজারে বিক্রয় করতে দেখা যায় অ প্রতিটি ছাই ২শত টাকা বড়সাইজের ছাই ৫শত টাকা থেকে ৬শত টাকা,পলো প্রতিটি ছোট সাইজের ৫শত টাকা, বড়সাইজের প্রতিটি ৭শত টাকা থেকে ১হাজার টাকা করে বিক্রয় করছে। মাছ ধরার ফাঁদ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ ও সুতা। প্রথমে বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা তুলে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর শক্ত সুতা ও বেতের সাহায্যে বাঁশের শলাগুলো বিশেষভাবে বেঁধে কারিগররা এগুলো তৈরি করেন। এতে থাকে বিভিন্ন আকৃতির খোপ। এগুলোতে মাছ ঢোকার রাস্তা থাকে। কিন্তু বের হওয়ার কোনো রাস্তা বা উপায় থাকে না। অনেক সময় ফাঁদের মধ্যে টোপ হিসাবে শামুক-ঝিনুক ভাঙা এবং ভাত ও ধানের কুঁড়া দিয়ে তৈরি এক ধরনের মণ্ড ব্যবহার করা হয়। মাছ খাবার খেতে এর ভেতরে ঢোকে আর বের হয়ে আসতে পারে না।রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের জানিপাথর, ডাবুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাবুয়া, পুর্ব ডাবুয়া, হাসানখীল, কান্দিপাড়া, রাউজান পৌরসভার দক্ষিন গহিরা, শরীফ পাড়া, উত্তর গুজরা, এলাকায় বর্ষার মৌসুমে খাল বিল থেকে মাছ ধরার জন্য বাশ ও বেত সুতা দিয়ে তৈয়্রাী করা হয় ছাই, পলো। রাউজানের সুড়ঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সুবল নাথ বলেন, এটা আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে করে আসছি। আসলে শেষমেষ পুষায় না। জান বাঁচিয়ে কোনোরকমে চলা যায়। বাঁশ, বেত, সুতা লাগে। এসব কিনে আনতে হয়। ঘরের সবাই মিলে কাজ করে লাভ হয় ৪ থেকে ৫শ টাকা। এটা দিয়ে আমাদের চলে না। এই শিল্পকে রক্ষা করতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। এটা আসলে মৌসুমী ব্যবসা। দেশি ছোট মাছ ধরতে এগুলো ব্যবহার হয়। মাছ ধরার ফাঁদ ছাই কিনতে আসা ক্রেতা আবুল কালাম বলেন, বর্ষার মৌসুমে খাল বিলে ছাই বসিয়ে মাছ ধরে ঐ মাছ বাজারে বিক্রয় করি। গ্রামের খাল-বিল বা নদীতে মাছ ধরার পুরনো পদ্ধতি ও উপকরণের মধ্যে বাঁশের ফাঁদ অন্যতম। কিন্তু দিনদিন জীবন জীবিকার এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। তবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে হয়তো এটিকে শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।