শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পাহাড়ী এলাকার পাহাড় টিলা ও পাহাড়ী এলাকার কৃষি জমি প্রতিদিন এসকেভেটার দিয়ে কাটছে মাটি খোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রতিদিন রাতেই পাহাড় টিলা ও পাহাড়ী এলাকার কৃষি জমির মাটি খনন করে ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসনড়ক, হলদিয়া ভিলেজ রোড, দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী সড়ক, এয়াসিন শাহ সড়ক, শহীদ জাফর সড়ক, গণির ঘাট সড়ক, কলমপতি নাগেশ^র গার্ডেন সড়ক, আ্ইলী খীল ওয়াহেদের খীল সড়ক, চান মিয়া চৌধুরী সড়ক, রশিদর পাড়া সড়ক, তালুকদার বাড়ী সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, সুলতানুল আউলিয়া সড়ক, রাণী পাড়া সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক, অদুদিয়া সড়ক, খান বাহাদুর আবদুল জব্বার চৌধুরী সড়ক, ইছাপুর সড়ক, আকবর শাহ সড়ক, চিকদাইর পাঠান পাড়া সড়ক, নদীমপুর সড়ক, মিণাগজি বাড়ী সড়ক, কদলপুর শমশের পাড়া সড়ক, হযরত আশরফ শাহ মাজার সড়ক, ভোমর পাড়া সড়ক, দক্ষিন জয় নগর সড়ক, শাহেদুল্ল্রাহ কাজী পাড়া সড়ক, নাজির টিলা সড়ক, জগৎপুর আশ্রম সড়ক, মহামুনি মন্দির সড়ক, শেখ পাড়া সড়ক, গশ্চি লাম্বুর হাট সড়ক, খেলার ঘাট সড়ক, বিনাজুরী লেলাঙ্গারা সড়ক, জগৎ ধর সড়ক, জাম্বইন সড়ক, কাগতিয়া মাওলানা রুহুল আমিন সড়ক, ডোমখালী আজিমের ঘাট সড়ক, মগদাই শ্যামচারন সড়ক, ডাঃ রাজামিয়া সড়ক, মগদাই আবুর খীল সড়ক, উরকিরচর এন্ডারসন সড়ক, নোয়াাপাড়া চৌধুরী সড়ক কচুখাইন সড়ক গশ্চি খৈয়াখালী সড়ক, আধার মানিক ডিসি সড়[ক, বামাচরন সড়ক সরকার পাড়া সড়ক, হলদিয়া হযরত আলী হোসেন শাহ সড়ক, ডাবুয়া রাবার বাগান সড়ক, রায়কিশোরী সড়ক, সাহেব বাড়ী সড়ক, বিনাজুরী কুন্ডেশ^রী সড়[ক, পটশ্চিম বিনাজুরী সড়ক পুর্ব রাউজান রাউজান রাবার বাগান সড়ক দিয়ে ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে পুকুর জলাশয় ও কৃষি জমি ভরাট করছে। রাতেই মাটি ভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় সময়ে শব্দে সড়কের পাশে বসবাসকারী বাসিন্দ্বারা ঘরে ঘুম যেতে পারেনা বলে এলাকার বাসিন্দ্বারা অভিযোগ করেন। অপরদিকে সড়ক দিয়ে মাটি ভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় সড়কের কাদা মাটি পড়ে সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে মারাত্বক ঝুঁকি নিয়ে। রাউজানের পাহাড়ী এলাকা হলদিয়া ইউনিয়নের শিরনী বটতল, হলদিয়া বড়ুয়া পাড়া, উত্তর সর্তা, গর্জনিয়া, এয়াসিন নগর, হলদিয়া রাবার বাগান, ওয়াহেদ্যা খীল, বৃকবাবানুপুর, বৃন্দ্বাবনপুর, বানারস, গলাচিপা, জানিপাথর, সিংহরিয়া, ডাবুয়া ইউনিয়নের উত্তর আইলী খীল, রাধামাধবপুর, সুড়ঙ্গা, হাসান খীল, পুর্ব ডাবুয়া, মেলুয়া, রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের ওয়াহেদের খীল, আইলী খীল, জঙ্গল রাউজান, রহমত পাড়া, ঢালার মুখ, কাজী পাড়া, রাউজান রাবার বাগান, চিকনছড়া, মুখছড়ি, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের পুর্ব রাউজান, চেহেরী খীল, জয় নগর বড়ুয়া পাড়া, রানী পাড়া, ভোমর ঢালা, গাজী পাড়া, শমশের নগর, কেউটিয়া, কদলপুর ইউনিয়নের কারকাতর পাড়া, শমশের পাড়া, দক্ষিন শমশের পাড়া, কমলার টিলা, ভোসর পাড়া হযরত আশরফ শাহ মাজারের পুর্বে, উত্তর পাশে দক্ষিন জয়নগর, পাহড়তলী ইউনিয়নের শাহেদুল্ল্রাহ কাজী পাড়া, নাজিরের টিলা, জগৎপুর আশ্রমম রাউজান তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের পেছনে, মহামুনি, বহলপুর এলাকায় প্রতিদিন নির্বিচারে কাট হচ্ছে পাহাড় ও টিলা। এছাড়া ও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমি থেকে গভীর ভাবে মাটি খনন করে রাতেই ড্রামস ট্রাক ভর্তি করে সড়ক পথে রাউজান হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় পুকুর জলাশয় ও কৃষি জমি ভরাট কাজে মাটি বিক্রয় করছে মাটি খোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা । একের এক খুন গোলাগুলি, দলের নেতার হুঁশিয়ারি বার্তায়ও থামছে না রাউজানের পাহাড় টিলা ভূমি থেকে মাটি কাটা। স্থানীয়দের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মী পরিচয়ে থাকা একাধিক সিন্ডিকেট দল উপদলে বিভক্ত হয়ে পাহাড় টিলা ভূমির অস্তিত্ব বিলীন করার কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে রাউজানের পাহাড়ী এলাকা পাহাড় টিলা কাটার সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাদের শূন্যস্থান পূরণ করে একাজে জড়িত হয়েছে বিএনপি, যুবদল পরিচয়ধারীদের নিয়ে গড়ে ওঠা মাটি সরবরাহকারীরা।জানা যায়, রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া, পূর্ব রাউজান, আইলীখীল, ওহেদেরখীল, রাউজান পৌরসভা, জঙ্গল রাউজান, পূর্ব কদলপুর, জয়নগর পাহড়তলী, সহ রাউজানের বিভিন্ন এলাকা কেন্দ্রিক রয়েছে মাটি ব্যবসায়ীদের অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট। দল উপদলে বিভক্ত হয়ে থাকা এ মাটি ব্যবসায়ীদের রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। নিজ নিজ এলাকায় এই ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্বৈরাচার পতনের পর থেকে সংঘর্ষ সংঘাতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। গুলিতে আহত হয়েছে অনেকেই। বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগের আমলে পাহাড় টিলা কেটে বেশির ভাগ মাটি সরবরাহ দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি চার লেইন সড়ক পথ প্রশস্তকরণ কাজ ও দুটি পিংক সিটি ও বিসিক শিল্পাঞ্চল ভরাট কাজে। এর বাইরে মাটি সরবরাহ দেয়া হয়েছে নিচু এলাকা ভরাট কাজে। এখন মাটি সরবরাহ করে যাচ্ছে অবৈধভাবে দখল করা খাল, নালাসহ পুকুর জলাশয় ও কৃষি জমি ভরাট কাজে।স্থানীয় জনসাধারণের মতে, মাটির ব্যবসা নিয়ে একের পর এক খুন ও সংঘর্ষের ঘটনায় মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালে কিছু সময় বিরতি দিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে অপরাধীরা। দলের স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানালে এরপর থেকে এখন দিনের বেলায় মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত মাটি কেটে শত শত ড্রাম্প ট্রাকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকার লোকজন বলেছেন, পাহাড় টিলা থেকে কাটা মাটি পরিবহনে থাকা ট্রাকের চাকার চাপে গ্রামীণ রাস্তা সমূহ ধসে যাচ্ছে। অনেক রাস্তায় দেয়া ইট চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে পাউডার হয়ে বাতাসে উড়ছে। পথচারীদের শরীর ঢেকে যাচ্ছে ইটের লালচে পাউডারে।সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের বৃকবানপুর, বৃন্দ্বাবনপুর, বানারস, দলই বাড়ী, উত্তর আইলী খীল, ডাবুয়া ইউনিয়নের সুড়ঙ্গা, হাসান খীল,মেলুয়া. কলমপতি, রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াহেদেরখীল, আইলী খীল, দাওয়াত খোলা, জঙ্গল রাউজান, রাউজান ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান, রানী পাড়া, চিকনছড়া, মুখছড়ি, জয়নগর, চেহেরী খীল, ভোমর পাড়া, শমশের নগর, কদলপুর শমমের পাড়া, দক্ষিন শমশের পাড়া কমলার টিলা, জয় নগর, জগৎপুর আশ্রম, রাউজান তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের পেছনে ও বিপরিতে শত শত একর পাহাড় টিলার মাটি কেটে নেওয়ায় বিশাল বিশাল পুকুর জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।গত ৮ জানুয়ারি স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ পেয়ে পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড় টিলা ভূমির মাটি কাটার ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা।তিনি পাহাড় টিলা কাটার দৃশ্য স্বচক্ষে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। যখন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা পরিদর্শনে যান তখন সেখানে ছিল মাটি কাটার বিশাল খনন যন্ত্র (স্কেভেটর)।তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অবিলম্বে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।












