অবশেষে ‘ভুতুড়ে’ জাহাজের রহস্য উদঘাটন

সাগর থেকে ভোলার চর নিজামে ভেসে আসা ভুতুড়ে নৌযান (জাহাজ) নিয়ে উপকূলবাসীর মধ্যে যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল তার অনেকটা অবসান হয়েছে। এটি কোন জাহাজ নয় পাথরবাহী বার্জ বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। নৌযানটি ভেসে আসার একদিন পর শুক্রবার (১৫ জুলাই) কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন তাদের আওতায় নিয়েছে।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, পাথরবাহী বার্জটি ভারতে কাকিনাদা পোর্ট হতে কক্সবাজার যাওয়ার সময় সাগরে বৈরী আবহাওয়া উত্তাল ঢেউয়ে পড়ে এখানে ভেসে আসে। বড় পন্টুনের মতো দেখতে জন মানবহীন ওই নৌযানটি কোথা থেকে কীভাবে ভেসে এলো তা নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে আলোচনা সমালোচনা চলছিল তার অবসান হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা কে এম শাফিউল কিঞ্জল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কাকিনাদা পোর্ট হতে আসা জনমানবহীন বিদেশি পাথরবাহী ‘এ জেড কিংদাউ’ বার্জটি বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১ টায় চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের চর নিজামের পূর্বপাশে আটকে যায়। এ বিষয়টি চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনকে অবহিত করেন। ওইদিন দুপুরেই কোস্ট গার্ডের একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার সকালে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের ৯ সদস্যের একটি দল ২টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও একটি স্পিডবোটে করে ঘটনাস্থলে যায়। উপস্থিত সাধারণ জেলেদের বার্জের কাছ থেকে সরিয়ে দেয়া ও এর কাছে না যাওয়ার জন্য নিরুৎসাহ করে। বার্জটি পরিদর্শন করে একটি এক্সকেভেটর, একটি পাথর ভাঙ্গার মেশিন, আনুমানিক ১৩ হাজার মে. টন পাথরসহ বেশকিছু সরঞ্জামাদি দেখতে পায়। ওই পাথর ভারতের কাকিনাদা পোর্ট হতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী আলট্টা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টের চলমান কাজের জন্য রওয়ানা করেছিল।

পথিমধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় টাগ বোট ‘এ এম এ্যাকুয়ার্ড’ হতে বার্জটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে বার্জটি কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় রয়েছে। উক্ত বিষয়টি ভোলার জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। তবে আগে বৃহস্পতিবার জেলেরা বার্জ থেকে সহজ পরিবহন যোগ্য কিছু মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।