টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে বান্দরবান ও কক্সবাজারে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বান্দরবানের লামায় পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিন জনসহ পাঁচজন এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন এক নারী। অব্যাহত বৃষ্টিতে দুই জেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও অনেকে তা মানছেন না।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের সদস্য। অপর ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুইজন। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।

নিহতরা হলেন- আজিজনগরে বাসিন্দা মো. ইউনুস, তার স্ত্রী রানু আক্তার এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। অন্য ঘটনায় নিহতরা হলেন মো. জুয়েল এবং তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে পাহাড় ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই দিন ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তাদের মা। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোরে মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড় ধসের খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন সেখানে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই শিশুসহ মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মায়ের চিকিৎসা চলছে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুই শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি ইউএনও শাহীন দেলোয়ার।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকে সেখানে যেতে অনাগ্রহী।












