টানা অতি বর্ষনে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, ৩ মাস পর ৪ ইউনিটে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: কয়েকদিনের টানা অতি বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হ্রদে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ৪টি ইউনিটে উৎপাদন বেড়ে ১২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৪টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১২৫ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ১নং ইউনিটের ৩৫, ২ নং ইউনিটে ৩৪, ৪নং ইউনিটে ২৮ এবং ৫ নং ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট মিলে মোট ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তিনি বলেন, এরআগে চলতি বছর গত এপ্রিল মাস থেকে হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে থাকে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে হ্রদে পানি বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে।

পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ ৩ মাস যাবৎ সচল থাকার পরও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু করা সম্ভব হয়নি। এসময় রেশনিং পদ্ধতিতে কেন্দ্রের ইউনিট গুলি চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখা হয়। এতে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কেন্দ্রে সর্বশেষ ৯৬ মেগাওয়াটে নেমে আসে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বেড়ে গেলে কেন্দ্রের উৎপাদন আরও বাড়বে।

এদিকে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে রাঙামাটি সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা অতি ভারী বর্ষন হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে। সূত্র আরও জানায়, এসময় রুলকার্ভ অনুযায়ী হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৪ দশমিক ৯৬ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল)। বর্তমানে পানি আছে ৭৯ দশমিক ০৯ ফুট এমএসএল। । হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে বলে একই সূত্র জানায়।