কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি চার দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, মাজারের ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, মাজার কমিটিকে তরিকাপন্থি ও তরিকার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে এবং আগামী ওরসে মাজারে গানের আয়োজন করতে হবে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও আশেকানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আসুন, আমরা আলাদা না থেকে একসঙ্গে কাজ করি। বিতর্ক ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সমাজ ও দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব। একটি কমিটি গঠন করে সবাইকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে যার ধর্ম সত্যিকারভাবে পালন করবে এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে মাজার কিংবা ধর্মের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হবে না।’
মাজারের নামে সংগৃহীত অর্থ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘ধর্ম বা অলী-আউলিয়ার নামে সংগৃহীত অর্থ কোনোভাবেই দুর্নীতি বা চুরির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা যাবে না। ইসলাম প্রদর্শনবাদকে নিরুৎসাহিত করেছে। লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আত্মসমালোচনার শক্তিই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে রাসুল (সা.)–এর উম্মত হিসেবে গড়ে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ, সমাজ ও পৃথিবীকে রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব। সত্যিকার অর্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষ রাষ্ট্রীয় ভয় বা ক্ষমতার অপব্যবহারকে ভয় পায় না। সে মানবতা, পরিবেশ ও আল্লাহর সৃষ্টিকে রক্ষার জন্য লড়াই করে।’
দেশে বিভেদ ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘কোনো মাজার, উপাসনালয় বা মানুষের বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করা সমর্থনযোগ্য নয়। ইসলাম কখনো ঘৃণা, সহিংসতা বা অন্যের বিশ্বাসের ওপর আঘাতকে সমর্থন করে না।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধু গুরুভক্ত ও অলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ ও ভাববৈঠকীর প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ রোমেল।












