মির্জা ইমতিয়াজ শাওন: সৌদি আরবের আবহাওয়া বিভাগ (الأرصاد) জানিয়েছে, হজের মৌসুম এখন একটি নতুন ঋতুচক্রে প্রবেশ করছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছর তুলনামূলক সহনীয় আবহাওয়ায় হজ পালনের সুযোগ পাবেন মুসল্লিরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হজের সময় নির্ধারিত হয় হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী। এই চান্দ্র পঞ্জিকা সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতি বছর হজের তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে এগিয়ে আসে। এর ফলে প্রায় ৩৩ বছরের একটি পূর্ণ চক্রে হজ সব ঋতুর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে।

হজের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় মক্কা এবং আশপাশের পবিত্র এলাকাগুলোতে, যেখানে আবহাওয়া ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
গ্রীষ্মকালে সৌদি আরবের আবহাওয়া
গ্রীষ্ম মৌসুমে সৌদি আরবে, বিশেষ করে মক্কা অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। তীব্র রোদ, শুষ্ক গরম এবং মাঝে মাঝে ধুলিঝড় হজযাত্রীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। এ সময় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ক্লান্তিজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসজিদে হারাম ও আরাফাতের ময়দানে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে, যা বিশেষ করে বয়স্ক হাজিদের জন্য ছিল চরম কষ্টকর।
এই প্রেক্ষাপটে তীব্র দাবদাহে হজ পালনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা থেকে দীর্ঘদিনের জন্য মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের (এনসিএম) মুখপাত্র হুসাইন আল-কাহতানি জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল থেকে শুরু হচ্ছে হজের নতুন ঋতুচক্র।
নতুন ঋতুচক্রে কী পরিবর্তন আসছে
আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী টানা আট বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে বসন্তকালে। এরপরের আট বছর শীতকালে এবং পরবর্তী কয়েক বছর শরতের মনোরম আবহাওয়ায় হজ পালিত হবে। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ২০৫০ সালের দিকে হজ আবার গ্রীষ্মকালীন চক্রে ফিরে যাবে।
এনসিএম-এর দীর্ঘমেয়াদী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী প্রায় আড়াই দশক হজযাত্রীদের তপ্ত গ্রীষ্মের চরম তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হবে না, যা নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর।
বর্তমান পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া কেমন থাকবে
বর্তমানে হজ মৌসুম ধীরে ধীরে গ্রীষ্ম থেকে সরে এসে বসন্তঘেঁষা একটি সময়ে প্রবেশ করছে। এর ফলে আগামী প্রায় ৮ বছর তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকবে—সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। বাতাস কিছুটা মৃদু থাকবে এবং আবহাওয়া হবে অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক।
আবহাওয়া অফিস বলছে, এর অর্থ এই নয় যে মক্কায় একেবারেই গরম থাকবে না। তবে মে মাসের শেষের দিকের তাপমাত্রা গ্রীষ্মের চরম পর্যায়ের তুলনায় অনেক সহনীয় হবে। এতে করে মিনায় অবস্থান, আরাফাতের ময়দানে দীর্ঘ সময় থাকা এবং মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রোকনগুলো পালন সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া ভিড় ব্যবস্থাপনা সহজ করবে এবং হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাবে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা মুসল্লিরাও শারীরিকভাবে কম চাপ অনুভব করবেন এবং আরও মনোযোগের সঙ্গে ইবাদত করতে পারবেন।
তবে এই স্বস্তির সময় স্থায়ী নয়। প্রায় ২৫ বছর পর হজ মৌসুম আবার গ্রীষ্মকালীন চক্রে ফিরে যাবে, যখন তাপমাত্রা পুনরায় বৃদ্ধি পাবে এবং পূর্বের মতো তীব্র গরম পরিস্থিতি তৈরি হবে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান এই আবহাওয়াগত পরিবর্তন হজযাত্রীদের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা—যেখানে আগামী কয়েক বছর তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশে হজ পালনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।











