তমিজিয়া মাদরাসা ৫৫ বছর পর পেল আধুনিকমানের নতুন একাডেমিক ভবন

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুটাখালী তমিজিয়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অবশেষে চারতলা বিশিষ্ট একটি নতুন একাডেমিক ভবন পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫৫ বছর পর সরকারি বরাদ্দে আধুনিকমানের নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সুন্দর পরিবেশ তৈরি হওয়ায় খুশিতে পঞ্চমুখ শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে নতুন ভবনটির কারণে মাদরাসা ক্যাম্পাসের ভেতরে বাইরে পরিবেশগত ইতিবাচক পরিবর্তন আসার ফলে বেশ উৎফুল্ল শিক্ষক এবং অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

কক্সবাজার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দে চারতলা বিশিষ্ট আধুিনকমানের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে আনুষ্ঠানিক চাবি হস্তান্তর ও নতুন ভবন শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদরাসা গর্ভনিং কমিটির সভাপতি মাওলানা আবদুর রহমান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপসহকারী প্রকৌশলী অমিত নাহা, মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ রেজাউল করিম প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ,শিক্ষক মন্ডলী, অভিভাবক মহল ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে এলাকায় শিক্ষাপ্রসারের অনন্য সোপান হিসেবে খুটাখালী তমিজিয়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসাটি চালু হয়েছিল। এলাকাবাসির অনুপ্রেরণায় শিক্ষানুরাগী মাওলানা আফজল আহমদ প্রথমদিকে খুটাখালী জুনিয়র হাইস্কুল নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে এটি মাদ্রাসায় উন্নীত হয়।

খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান বলেন,১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মাদ্রাসাটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি খুটাখালী তমিজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় মাদরাসা নামে পরিচিত এবং ফাজিল (ডিগ্রি) বিভাগে উন্নীত হয়েছে। পরিবেশগত কারণে মাদরাসাটি এতদাঞ্চলে লেখাপড়ার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে। এরই ফলশ্রুতিতে হাজারো শিক্ষার্থী বর্তমানে মাদরাসায় লেখাপড়া করছেন।

তিনি বলেন, এতদিন ভবন সংকটের কারণে শ্রেনীকক্ষ অপ্রতুল থাকায় নিরবচ্ছিন্ন পাঠদান কার্যক্রমে নানাধরণের সমস্যা সৃষ্টি হতো। এমন প্রেক্ষাপটে প্রায় ৫৫ বছর পর পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক সরকারি বরাদ্দে চারতলা বিশিষ্ট আধুনিকমানের একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে জিইয়ে থাকা সেই সংকট কেটে গেছে। এখন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ার নিশ্চয়তা পেয়ে বেশ খুশি।