গফুর হালীকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ায় সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা হবে

পটিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আবদুল গফুর হালী কালজয়ী শিল্পী। চাটগাঁইয়া গানের বিশ্বায়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

অথচ এই সাধকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গান নকল করার ভিত্তিহীন স্ট্যাটাস দিয়ে সিরাজুল ইসলাম যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। সিরাজকে দ্রুত এ পোস্ট প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্য সিরাজের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরপত্তা আইনে মামলা করা হবে। ’
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় পটিয়া থানার মোড় চত্বরে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধন ও সমাবেশে পৌর মেয়র এসব কথা বলেন।

পটিয়ার কৃতী সন্তান, চাটগাঁইয়া গানের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী আবদুল গফুর হালীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অবান্তর অপবাদ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তারা বলেন, সিরাজুল ইসলাম আজাদ যে গান দুটি নিয়ে গফুর হালীর বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ করেছেন তা ডাহা মিথ্যা। কারণ একটি গানের সঙ্গে আরেকটি গানের কোনো মিল নেই। উপরন্তু গফুর হালীর গানগুলো সত্তর ও আশির দশকে লেখা, যা ২০১৪ সালে প্রকাশিত তার গীতিকাব্য ‘শিকড়’-এ রচনাকালসহ উল্লেখ রয়েছে। ওইসব গানের কপিরাইট সনদও পেয়েছে আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টার। ৭০/৮০ এর দশকে চট্টগ্রামে শিল্পী হিসাবে সিরাজের কোনো পরিচিতি ছিল না।

তাছাড়া সিরাজের কোনো অভিযোগ থাকলে গফুর হালীর জীবদ্দশায় তা তুলতে পারতেন। কিন্তু গফুর হালীর মৃত্যুর চার বছর পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গফুর হালীর বিরুদ্ধে গান নকল করার অভিযোগ অমানবিক, অনৈতিক ও আইনগতভাবে অপরাধ। যে মানুষটিকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা হচ্ছে, যে মানুষটির গান সারা বিশ্বে বাঙালির কাছে সমাদৃত, তেমন একজন কিংবদন্তিকে নিয়ে সিরাজের মতো একজন এককালের অশ্লীল গানের শিল্পীর অভিযোগ তোলা চরম ধৃষ্টতা।

প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবির সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, সাহিত্যবিশারদ স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ফরিদ, পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার মিত্র, কুসুম কলি আসর পটিয়া উপজেলার সভাপতি এটিএম শাহজাহান, শাপলা কুঁড়ি আসর পটিয়া উপজেলার সভাপতি আবদুল করিম, পটিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম রানা, সাংবাদিক আহমদ উল্লাহ, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহম্মেদ, রশীদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম হারুনর রশীদ, কবি জামাল উদ্দিন, সংগীতশিল্পী আলাউদ্দিন কাওয়াল, কাওয়াল, শিল্পী আহম্মদ নবী আমিরী, মফিজুল ইসলাম, শিল্পী মাহফুজ রহমান জাবেদ হালী, পটিয়া সম্মিলিত শিল্পী পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক অপু চন্দ্র দে, শিল্পী ফেরদৌস হালী, এমরান হোসেন রাসেল, শিমুল মল্লিক, আজগর হোসেন, নাইম উদ্দিন, সাইদুর রহমান তানিম, আবদুস সাত্তার, শিবু মল্লিক, জয় শীল প্রমুখ।