শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজকে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর দলীয় প্রতিক নৌকা নিয়ে গতকাল ৩১জানুয়ারী রবিবার সন্দ্ব্যায় ঢাকা থেকে রাউজান আসেন রাউজান পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ । আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী জমির উদ্দিন পারভেজ নৌকা প্রতিক নিয়ে রাউজান আসলে তাকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা রাউজান পৌরসভার সর্তার ঘাট, গহিরা চৌমুহনী, বেরুলিয়া, রাউজান উপজেলা সদরে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান । পরে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যলয়ে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আবদুল ওহাবের সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক বশির উদ্দিন খানের সঞ্চলনায় দলীয় মেয়র প্রার্থী জমির উদ্দিন পারভেজকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে জয়ী করার জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে সভার আয়োজন করেন । এসময়ে সভায় বক্তব্য রাখেন, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার বাবুল, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সহ সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী, ইরফান আহম্মদ চৌধুরী, স্বপন দাশগুপ্ত, কামরুল হাসান বাহাদুর,রবিন্দ্র লাল চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর আলমগীর আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম চৌধুরী শাহাজাহান, রাউজান পৌরসভা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী,পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জানে আলম জনি, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সোহেল, চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী, বিএম জসিমউদ্দিন হিরু, চেয়ারম্যান সাহাবুউদ্দিন আরিফ, চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী, নুরুল আবছার বাশি, যুবলীগ নেতা সুমন দে, কাজী রাশেদ, সিরাজুল ইসলাম শাওন, আজাদ খান, জাহাঙ্গীর আলম, শওকত হোসেন, হাসান মোহাম্মদ রাসেল, আবু সালেক, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ, আবু সৈয়দ আলমগীর, নুরুল আমিন, রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান মাসুদ, সাধারন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন পিবলু, রাউজান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আরমান সিকদার, সাধারন সম্পাদক ফয়সল মাহমুদ সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সভায় দলীয় প্রার্থী জমির উদ্দিন পারভেজকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য মাঠে কাজ করার অঙ্গিকার করেন। রাউজান পৌরসভার নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাধারন মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা জমির উদ্দিন পারভেজকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অভিনন্দন জানান । রাউজান পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী রাউজান পৌরসভা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন এখনো রাউজান পৌর এলাকায় আসেনি । বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থী আবু জাফর চৌধুরী বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে কাগজ পত্র তৈয়ারী করে মনোনয়ন পত্র জমা দেব । বিএনপির প্রার্থী আবু জাফর চৌধুরী ছাত্রজীবনে ভাসানী ন্যাপ করতো। পরবর্তী মুসলিম লীগ করেন । ৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন । পরবর্তী এরশাদ সরকারের শাসন আমলে যুদ্বপারাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জাতীয় পাটিতে যোগ দিলে জাতীয় পাটির রাজনীতি করেন আবু জাফর চৌধুরী। পরবর্তী জাতীয় পাটি ছেড়ে যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ন্যাশনাল ডেমোক্রটিক পাটি এনডিপি গঠন করলে আবু জাফর চৌধুরী রাউজান উপজেলা এনডিপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । ৯৬সালে এনডিপি বিলুপ্ত করে যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপিতে যোগ দিলে আবু জাফর চৌধুরী রাউজান পৌরসভার বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে রাউজান পৌরসভা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন । আবু জাফর চৌধুরী এরশাদ সরকারের শাসন আমলে ৭নং রাউজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয় । পরবর্তী চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে সরে যায় । রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াহেদের খীল এলাকার বাসিন্দ্বা বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থী আবু জাফর চৌধুরী এক সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান না করে বিদ্যালয়ে না গিয়ে সরকারের দেওয়া বেতনভাতা নিতো । একারনে পরবর্তী তাকে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সরকারী দায়িত্ব পালন করার জন্য চাপ দিলে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে দেয় ।বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থী আবু জাফর চৌধুরী মুসলিম লীগ করেনি এনডিপি ও বিএননি, জাতীয় পাটি করেছেন বলে স্বীকার করে বলেন, আমি ৫ বৎসর শিক্ষকতা করে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি ।
রাউজান উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, রাউজান পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ১৩২টি, অস্থায়ী ভোট কেন্দ্রর সংখ্যা ২০। ভোটাধিক প্রয়োগ করবেন ২৪ হাজার ১৩৬ নারী ভোটারসহ মোট ৫০ হাজার ৫৮৪জন ভোটার। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, বাছাই হবে ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রচার শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি হবে ভোট। সেদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠালাভ করা রাউজান পৌরসভার আয়তন ৪৪ বর্গ কিলোমিটার। সর্বশেষ রাউজান পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর।












