‘ভাষা ভিত্তিক-অসম্প্রদায়িক স্বাধীন জাতিস্বত্ত্বা গঠনে পৃথিবীতে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন বলেছেন, শুধুমাত্র ভাষা ভিত্তিক ও অসম্প্রদায়িক একটি স্বাধীন জাতিস্বত্ত্বা গঠনে বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দৃষ্টান্ত। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন বাঙ্গালীকে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ঠিকানার সন্ধান দিয়েছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধুমাত্র বাংলা ভাষা নয়, পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। তিনি আজ বিকেলে একুশে মেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ৪ দিন ব্যাপী ভাষা ও সংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা গুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে যে বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে তা আজ অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বারপ্রান্তের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাঙ্গালীর নয় তিনি বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তিবার্তা। তাঁর পিতার মতই তিনি শোষিতের পক্ষে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাতৃভাষা চর্চাই এখনো কোনো সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে উঠে নি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সামর্থ্য সীমিত। তারপরও মাতৃভাষা চর্চাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে প্রণোদনা দিতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে আমি ভাষাবিদ এবং সংস্কৃতিকর্মীদের পরামর্শকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে চাই। সভাপতির ভাষণে ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসবের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একুশ মেলা পরিষদ চট্টগ্রামে বই মেলা আয়োজন সহ ভাষা সংস্কৃতির বিকাশে ঐতিহ্যে সম্বৃদ্ধ। আজ আনন্দের বিষয়, চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় একটি সর্বজনীন বইমেলা এই প্রথমবারের মত নতুন মাত্রায় অভিষিক্ত হয়েছে। এর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একুশে মেলা পরিষদ সিটি কর্পোরেশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন ভাষা সংস্কৃতিক উৎসব বাঙ্গালির শুদ্ধ মনন চর্চাকে প্রাণিত করে আসছে। এখানে কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই আছে নাগরিক সমাজে প্রাণের বহি: প্রকাশ। স্বাগত ভাষণে ভাষা সংষ্কৃতিক উৎসবের মহাসচিব প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়–য়া বলেন, সকল শুভ উদ্যোগে কিছু প্রতিকুলতা থাকে। এই প্রতিকুলতা অতিক্রম করে ভাষা সংস্কৃতি উৎসব প্রথমবারের মত যাত্রা শুরু করলো। এই উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের জন্য উৎসর্গিত হলো। ভাষা সংস্কৃতি উৎসব উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভাষা সংষ্কৃতি উৎসব উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ইকবাল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দীন চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী বেলাল আহম্মেদ, আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান ইউসুফ, বাকলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী, সদরঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ নেজাম উদ্দীন, বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অনুপ বিশ্বাস, নগর যুবলীগের সদস্য আবুল কালাম আবু, সুমন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, ইয়াসির আরাফাত, সাংস্কৃতিক সংগঠক নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ, সজল দাশ, মুজিবুর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে দাড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলীয় সংগীত পরিবেশণা করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমী চট্টগ্রামের শিল্পীদল, দলীয় নৃত্য পরিবেশনা করেন নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তী ও সোমা বোস এর পরিচালনায় ওডিসি এন্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট ও নৃত্যম একাডেমী। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন বাচিক শিল্পী প্রণব চৌধুরীর পরিচালনায় বোধন আবৃত্তি পরিষদ। একক সংগীত পরিবেশন করেন বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী রুপা বিশ্বাস, রুপি চৌধুরী, নুসরাত জাহান রিনি, ইলমে বিনতে বখতেয়ার। আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা সংস্কৃতি উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক ও মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।