শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হবে না, সেই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ, আর দক্ষ মানুষই পারে পরিবার ও সমাজের পরিবর্তন আনতে হবে বলে এমন মন্তব্য করেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রোববার (১৭ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণও দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা। জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার প্রশিক্ষণ ও উপকরণ দিতে পারে, কিন্তু সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যক্তিগত চেষ্টা ও আন্তরিকতা। সমাজে যাঁরা আজ প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের বেশির ভাগই সংগ্রাম করেই সেখানে পৌঁছেছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আপনারা একটি সেলাই মেশিন পেয়েছেন, কিন্তু স্বপ্ন এখানেই থামানো যাবে না। একটি মেশিন কীভাবে ১০টি মেশিনে রূপ নিতে পারে, সেই স্বপ্ন দেখতে হবে।
নারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনাদের এই দুটি হাত শুধু নিজের জন্য নয়। আপনারা প্রমাণ করবেন, উন্নয়নের পথে নারীরাও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কর্মহীনতার প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলে মানুষের কর্মক্ষমতা ও চিন্তার শক্তি কমে যায়। তাই নিজেকে ব্যস্ত ও দক্ষ রাখার বিকল্প নেই। যারা আজ প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হবেন, তাঁরাই একদিন অন্যদেরও পথ দেখাবেন।
কারাগার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি কারাবন্দীদের সেলাই মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর দ্রুত দুটি নতুন মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদেরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা নতুন জীবন শুরু করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের সিনিয়র জেলা সুপার মো. ইকবাল হোসেন কারাবন্দিদের জন্য দুটি সেলাই মেশিন গ্রহণ করেন।












