কাপ্তাইয়ে উৎসবের আমেজে নববর্ষ ও বৈসাবি উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি): তিন পার্বত্য জেলায় ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ এবং পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ (বিজু, সাংগ্রাই, বিষু) যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয় বুধবার(৮ এপ্রিল)।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় দেশীয় সংস্কৃতি ও পাহাড়ি ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দিনটি স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠিত সভায় বৈশাখী আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। এসময় ইউএনও মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসবকে আনন্দময় করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হারিয়ে যাওয়া দেশীয় খেলাধুলা এবং পাহাড়ি সংস্কৃতির যাবতীয় অনুষঙ্গ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হবে যাতে একটি মানসম্মত ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ​লোকমান আহমেদ, কাপ্তাই থানার ওসি(তদন্ত) মোঃ সোহেল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা​ ডা. রুইহ্লাঅং মারমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনামুল হক হাজারি প্রমুখ।

এছাড়াও সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় জানানো হয়, পহেলা বৈশাখ ও বৈসাবি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বিজু, সাংগ্রাই ও বিষু উৎসবের রঙিন আয়োজন গুলো যেন নির্বিঘ্নে পালিত হয়, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।​ বক্তারা প্রত্যাশা করেন, পাহাড় ও সমতলের এই সম্মিলিত উৎসব সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হবে। অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রতিটি বিভাগকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়।