ভোটের উৎসবে আমেজহীন নিরামিষ পরিবেশ! নির্বাচনে ডিপফেক আতঙ্ক উত্তরণের উপায় কী?

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল —–

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরাজায় কড়া নাড়ছে! নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন! সব দলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ! শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কিন্তু উৎসুক ভোটারগণ জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে উৎসবের ভোটের কোনো আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে না মাঠে ময়দানে।

নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর ও রাজধানী ঢাকা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়। পোস্টার বিহীন নির্বাচন অর্থাৎ পোস্টার না থাকায় এবারের নির্বাচন উৎসবের আমেজ তৈরি করতে পারেনি!

১/১১ সরকার আমলে নির্বাচনী আচরণবিধি এবং দেয়ালে পোস্টার লাগানোর পরিবর্তে দড়ি দিয়ে পোস্টার লাগানোর যে সংস্কার হয়েছিল সেটাই ছিলো বৈপ্লবীক এবং বুদ্ধি ভিত্তিক সংস্কার! যা নির্বাচন শেষ হলে একদিনের মধ্যে সব পোস্টার অপসারণ করা সম্ভব ছিলো। এবং এটা ছিলো পরিবেশ সম্মত। যার মধ্য দিয়ে সমগ্র শহর এবং পাড়া মহল্লায় মোড়ে সড়কের অলি- গলিতে পোস্টার নির্বাচনে বড় একটা ভূমিকা রাখত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে পাড়া মহল্লায় মাঠে-ঘাটে অফিস আদালতে ইতিপূর্বে নির্বাচনে যেভাবে প্রার্থীদের নিয়ে সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ উদ্দীপনা দেখা যেত! এবারের নির্বাচনে সে আগ্রহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়েছে!
এক ধরনের ঝাপসা ধূসর নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে অনেকেই ধারণা করেছেন।

অনেকের মতে নির্বাচনে পোস্টার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো।
এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রেস মালিক শ্রমিক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অধিকাংশ মুদ্রণ শিল্প। নির্বাচনও হারিয়েছে তার ৫৪ বছরের ঐতিহ্য তথা নির্বাচনী সৌন্দর্য। অন্যদিকে পেস্টুন ব্যানান নির্ভর নির্বাচন পোস্টারের চেয়ে খরচ অনেক গুণ বেশি!

সাধারণ জনগণ দাবী তুলেছেন সামনে নির্বাচনগুলোতে পোস্টার অবশ্যই সংযোজন করতে হবে তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ এবং নির্বাচনের সৌন্দর্য ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আরব আমিরাতের সভাপতি শিবলী আল সাদিক বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যে উৎসব দেখা যেত সেই উৎসবের আমেজও পরিলক্ষিত হচ্ছে না! দেশে আসলাম ভোটেরও উৎসবে শামিল হব বলে কিন্তু এসে আশাহত হলাম নির্বাচনের বাস্তবতা দেখে! তার মতো নির্বাচন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন অনেকে এই প্রতিবেদককে।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দল তারুণ্য নির্ভর ইশতেহার ঘোষণা করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ফুল গিয়ারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাজ করে যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তি কেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণা থাকলেও মাঠে ময়দানে রাজনীতিতে ভোটের উৎসবে এখনো পর্যন্ত নির্বাচনে উৎসব কিংবা আমেজ তৈরি হয়নি! এদিকে গণভোটের সরকারের নিরপেক্ষতার ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শেষ মুহূর্তে এসে ইলেকশন কমিশন( ইসি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সরকারের প্রচার বৈধতা নেই বলে জানিয়েছেন!

অন্তবর্তী সরকারের প্রধান কাজ ছিলো একটি অবাধ দল নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা। ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন কলঙ্কিত হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান অন্তবর্তী সরকারে বড় কাজ ছিলো একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু তাদের আগ্রহ বেশি হ্যাঁ ভোটের! সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড শাহদীন মালিক অনেক আগেই বলেছেন, হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের কোন সুযোগ নেই। অবশেষে সেটাই সত্য হয়েছে ।
নির্বাচনে ডিপফেক আতঙ্ক উত্তরণের উপায়!

এ আই প্রযুক্তির কারণে বর্তমান নির্বাচন সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর! ফলে আতঙ্কের আরেক নাম ডিপফেক ভিডিও আতঙ্ক! ফেসবুক টিকটক ইউটিউব ইমো whatsapp! বুটিং ইনস্টাগ্রাম-সহ অসংখ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ভোটের আগ মুহূর্তে
ডিপফেক আতঙ্ক কী? যেমন চট্টগ্রামের কোনো একটি আসনে দুজন সমান জনপ্রিয় প্রার্থী রয়েছে সেখানে একজন ভোটের দিন সকাল কোন এক সময় ঘোষনা দিলেন (ছন্দনাম) আমি আশা আলম জনাব ভরসা উদ্দিন কে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেলাম!
এ আই প্রযুক্তি নির্ভর এমন ভুয়া ডিপফেক ভিডিও হুট করে ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথেই নির্বাচনের সমীকরণ বদলে যাবে! ঘন্টা দুয়েক পর আশা আলম এবং তার সমর্থনরা জানতে পারবেন। কিছুক্ষণ আগে যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি আশা উদ্দিনের নয়, ভিডিও সঠিক নয় এ আই প্রযুক্তি নির্ভর ফেক ভিডিও!

কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার তা অলরেডি হয়ে গেছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখলে লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এ বিষয়ে সচেতন করতে ৪ ডিসেম্বর ইউথ ভয়েস অফ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে গোল টেবিল বৈঠক করতে যাচ্ছে দেশের জনগণকে সচেতন করতে।

অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার জানিয়েছেন ডিপফেক আতঙ্কে উদ্বিগ্ন প্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামের পর ঢাকাতেও এরকম আরো একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে ইয়ুথ ভয়েস অফ বাংলাদেশের উদ্যোগে।

এছাড়া শোনা যাচ্ছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথাও
অন্তবর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বিগত কয়েক মাস আগে থেকে বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ইসি বলেছেন, তারা কোনো দলের চাপে নেই। দেশের শ্রেষ্ঠ একটা নির্বাচন উপহার দেবেন ইসি! ইতিহাসে কেমন নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা দেখার জন্য ১২ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনের পরপরই দ্রুত ফলাফল ঘোষণা আশা করছেন দেশের জনগণ!

লেখক সমাজচিন্তক ও কলামিস্ট
সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।