চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা ও পাশ্ববর্তী শোলকাটা গ্রামে কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, চুরি-ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার কালাবিবির দিঘির মোড় এলাকার একটি কনভেনশন হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শোলকাটা এলাকার বাসিন্দা নঈম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, একসময় শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত শোলকাটা গ্রাম বর্তমানে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু ভাসমান পরিবার সরকারি পুরোনো হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে বসবাসের আড়ালে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে ২০২১ সালে ভবনগুলো উচ্ছেদ করা হলেও পরে তারা আশপাশে বসতি গড়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ড শুরু করে।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, স্থানীয় এক পরিবারের নেতৃত্বে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং সেই ব্যবসা রক্ষায় কিশোর গ্যাং গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব গ্যাং সদস্যরা চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও হামলার মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
কাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত এলাকাবাসী বলেন, কারা তাদের পেছনে থেকে সহযোগিতা করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আড়াল থেকে কেউ না কেউ তাদের শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে। থানা-পুলিশ আমাদের (এলাকাবাসীদের) যথেষ্ট সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও জানান তারা।
গত ১০ মার্চ হাসপাতাল মোড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের এক সক্রিয় সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের বর্ণনা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, ওই ঘটনার পর একটি গোষ্ঠী হাসপাতাল, দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন মামলার রেকর্ড রয়েছে। এলাকাবাসী দাবি করেন, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সম্মেলনে বক্তারা এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপও চান তারা।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ ভোরে চুরি করতে গিয়ে ছয়তলা ভবনের কার্ণিশ থেকে পড়ে নিহত হয় সম্রাট গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. মাঈনুদ্দীন মহিম (২৩)। তার মৃত্যুর পর পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ এনে কয়েক দফায় হামলা-ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সম্রাট গ্রুপের প্রধান সম্রাটসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।












