চবিতে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর সলিমুল্লাহ খানের একক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের সেমিনার ও প্রদর্শনী হলে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় “সহজ মানুষ সমাচার, অথবা জাক লাকাঁর আবিষ্কার” (Archaeology of the Subject, or Originality of Jacques Lacan) শীর্ষক এক বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান। বক্তৃতায় তিনি ফ্রয়েড-পরবর্তী সময়ের প্রভাবশালী ফরাসি মনোবিজ্ঞানী ও দার্শনিক জাক লাকাঁর তত্ত্বের আলোকে মানুষের আত্মসত্তা বা সাবজেক্টিভিটির স্বরূপ বিশ্লেষণ করেন।

সলিমুল্লাহ খান তাঁর আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, সিগমুন্ড ফ্রয়েড মানুষের অবচেতন (unconscious) স্তর আবিষ্কার করেছিলেন, আর লাকাঁ দেখিয়েছেন এই অবচেতন স্তরই মানুষের আত্মসত্তার মূলে কাজ করে। লাকাঁর দর্শন অনুযায়ী, মানুষ কেবল জীববৈজ্ঞানিক প্রাণী বা সমাজের তৈরি নিয়মে বাঁধা কোনো সত্তা নয়; বরং মানুষ তখনই ‘সাবজেক্ট’ হয়ে ওঠে যখন সে ভাষা ও প্রতীকের জগতে (symbolic order) প্রবেশ করে। অর্থাৎ, ভাষা ও চিহ্নের মুখোমুখি হয়েই মানুষ নিজেকে ‘আমি’ হিসেবে অনুভব করতে শেখে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, সাবজেক্টিভিটি কেবল ভাষার ফল নয়, বরং এটি জন্ম নেয় ঠিক সেখানে যেখানে ভাষা মানুষের অনুভূতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়।

বক্তৃতায় প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান আরও বলেন, মানুষের অবচেতন বাসনা সবসময় সমাজের চাপিয়ে দেওয়া পরিচয়ের সঙ্গে এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি করে, আর এই দ্বন্দ্বই মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফুকো বা দেরিদারের মতো দার্শনিকরা যখন ‘সাবজেক্ট’ বা আত্মসত্তার ধারণা বাতিল করতে চেয়েছিলেন, লাকাঁ তখন তার প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্রয়েডের অবচেতন স্তরের গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। লাকাঁ মূলত বিশ্বকে পুনরায় ফ্রয়েডের পথে ফেরার আহ্বান জানান এবং মনোবিশ্লেষণের জগতে এক নতুন ও স্বতন্ত্র দিগন্ত উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষকসহ চবি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। মাননীয় উপাচার্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা প্রসারে আরও বেশি সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন চবি জাদুঘরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান।