নগরের বায়েজিদে রাউজানের যুবক আনিস খুন


শফিউল আলম রাউজান ঃ চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন পশ্চিম শহীদ নগর এলাকায় এক যুবকের খণ্ডিত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরকিয়া, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সুফিয়া নামের এক নারীসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নিহত যুবক অনিস রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের ফকির আহম্মদের বাড়ীর হায়দার আলীর পুত্র তার এবং সুফিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। সুফিয়া বিবাহিত এবং তার তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আনিছ প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি কিছুদিন ধরে ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এবং প্রায় এক দশক ধরে সুফিয়ার সঙ্গে পরিচয়, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের জেরে সুফিয়ার সংসার ভেঙে যায়। সম্প্রতি পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।সম্পর্কের এক পর্যায়ে আনিছ সুফিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে সেগুলো ব্যবহার করে সুফিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে তাদের মধ্যকার আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, আনিছ ওই ছবি ও ভিডিও সুফিয়ার মেয়ে ও জামাতাকে দেখানোর হুমকিও দিত।সূত্রের দাবি, ওই হুমকির পর সুফিয়া কৌশলে আনিছকে নিজের বাসায় ডেকে নেন। সেখানে পেছন দিক থেকে মরিচ বাটার শিল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে দা দিয়ে গলায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ পাঁচ টুকরো করে পশ্চিম শহীদ নগরের লোহারপুল এলাকার বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে ফেলে দেওয়া হয়।নিহতের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, আটক এক নারীর কাছ থেকে নিহত যুবক টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা চাইতে যাওয়ার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।এলাকাবাসীর একজন নারী বলেন, “আমরা নিজের চোখে লাশের টুকরো দেখেছি। পাওনা টাকা চাওয়ার কারণেই তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে হত্যা করে দেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে। এলাকায় আলোচনা রয়েছে, মুসা ও সুফিয়া মিলেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চার থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারে দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে পশ্চিম শহীদ নগরের রংধনু গলি থেকে পলিথিনে মোড়ানো দুটি হাত উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকা থেকে দুটি পা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল। হাত দুটি বাহু পর্যন্ত এবং পা দুটি হাঁটু থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। হাত-পা ও শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার হলেও এখনো দেহের বাকি অংশ পাওয়া যায়নি।বায়েজিদ বোস্তামি থানার পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত হাতের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত যুবকের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা গেছে।বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, ‘নিহত যুবকের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’