কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া: জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় চর্মরোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘ সময় ঘাম জমে থাকার কারণে দাদ, খোসপাঁচড়া, স্ক্যাবিস, অ্যালার্জি ও ফাঙ্গাল সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বহির্বিভাগে আগত প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো চর্মরোগে ভুগছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, নারী, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষই বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

চর্মরোগে আক্রান্ত ভুক্তভোগী মো. সাইফুল বলেন,“আগে কখনো এমন সমস্যা হয়নি। হঠাৎ শরীরে তীব্র চুলকানি ও দাগ দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি।
গৃহবধূ রোজিনা বেগম জানান,এই গরমে ঘাম থামছে না। এরপর থেকেই চর্মরোগ শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক কাজকর্ম করতেও কষ্ট হচ্ছে।
দিনমজুর আবদুল করিম বলেন,খোলা জায়গায় কাজ করতে হয়, আবার পরিষ্কার পানিরও সংকট রয়েছে। আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষই বেশি ভুগছে।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. সাজেদুল ইমরান শাওন বলেন, “বর্তমান আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে চর্মরোগের রোগী দ্রুত বাড়ছে। অপরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানির অভাব এবং নিজের ইচ্ছেমতো স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল হয়ে উঠছে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র দেশে চর্মরোগ এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় চর্মরোগে আক্রান্ত হন। এর একটি বড় অংশ গ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার, ঘাম জমে থাকলে দ্রুত শরীর পরিষ্কার করা, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং চর্মরোগ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।












