চবিতে অস্ত্রসহ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ক্যাম্পাস থেকে রাম দাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক বহিরাগত কর্মী আতঙ্ক বিপ্লব ওরফে বিপ্লবকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার রাত (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোন কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি শাহ আমানত হলে দা নিয়ে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন বহিরাগত শিক্ষার্থীর ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ অভিযোগে প্রথমে তাকে প্রক্টোরিয়াল বডি হেফাজতে নেয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ‘আইএসএস’-এর কর্মী এবং তার বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি। ক্যাম্পাসের অনেকে তাকে চেনেন ‘আতঙ্ক বিপ্লব’ নামে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোন লেনদেনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। মোবাইল ফেরতের টাকা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলেও পরে উভয় পক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করতে সম্মত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং ক্রেতাদের শাহ আমানত হলে ডাকা হয়। বিপ্লবের বাবা ওই হলের বাবুর্চি হওয়ায় সেখানেই সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়। শুরুতে বিপ্লব উপস্থিত না থাকলেও পরে হলে এসে বাবার জড়িত থাকার বিষয়টি দেখে ক্ষিপ্ত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তিনি দা হাতে হলে ঢুকে মোবাইল ফোনের ক্রেতাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। দা হাতে হলে ঢুকলে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে প্রক্টোরিয়াল বডি তাকে নিরাপত্তা দফতরে নিয়ে যায়।

প্রক্টোরিয়াল বডি ফোনটি পরীক্ষা করে সেখানে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার আলামত পায়। পাশাপাশি জানা যায়, ভুক্তভোগী ও বাদী পরস্পরের বন্ধু এবং অতীতে একসঙ্গে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ দিকে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। অভিযুক্ত বিপ্লব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটসোর্সিং ব্যবস্থার অধীনে নিয়োজিত একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সদস্য। ওই প্রতিষ্ঠানের নাম আইএসএস, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।