রাউজানে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে বসত ঘরে আগুন

শফিউল আলম, রাউজানঃ রাউজান পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ঢেউয়া পাড়া সুরেশ বিদ্যায়তনের উত্তর পাশে তেজন্দ্র শীলের বাড়ীতে গত ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘরের বাইরে দরজা বন্দ্ব করে দিয়ে তিনপরিবারের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় দুবৃত্তরা। ঘরের মধ্যে আগুন জ্বলছে দেখে তিন পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে চাইলে দরজা বন্দ্ব থাকায় তারা ঘরের টিনের বেড়া কেটে ঘর থেকে বের হয়ে পাণ রক্ষা করে। ঘর থেকে বের হয়ে তারা শোর চিৎকার করলে এলাকার বাসিন্দ্বারা দৌড়ে এসে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তেজন্দ্র শীলের বাড়ীর বাসিন্দ্বা বাবুল দাশ, প্রিতম তালুকদার, বিমল তালুকদারের ঘরে দুবৃত্তরা ঘরের দরজা বাইর থেকে বন্দ্ব করে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। দুর্বৃত্তের লাগিয়ে দেওয়া আগুন থেকে প্রাণ রক্ষা পাওয়া বাবুল দাশ বলেন, রাতেই আমি আমার পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঘুমিয়ে পাড়ি হঠাৎ ঘরের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খুলতে চাইলে ঘরের দরজা বাইর থেকে বন্দ্ব থাকায় দরজা খুলতে পারেনি । ঘরের টিনের বেড়া কেটে ঘর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পায় । আমার ও আমার পরিবারের শোর চিৎকার শুনে এলাকার বাসিন্দ্বারা এসে আগুন নেখাতে সক্ষম হয় ।

গত ১৭ ডিসেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে রাউজানে সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কেউটিয়া গ্রামে একটি ঘরে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই কায়দায় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কুলাল পাড়ায়ও চার ভাইয়ের ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রথমে কুলাল পাড়ায় গিয়ে পাশাপাশি অবস্থানে থাকা চার ভাই লক্ষী পাল, অধীর পাল, টুনটু পাল, পরান পালের ঘরে বাইরে তালা দিয়ে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পরিবারের লোকজন বাইরে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে দেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ। এসময় তাদের চিৎকারে পাড়ার লোকজন ছুটে আসতে দেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে পাড়ার লোকজন ঘরের বাইরের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। একইভাবে কেউটিয়া গ্রামেও বড়ুয়া পাড়ায় সাধন বড়ুয়ার বসত ঘরের বাইরে থেকে তালা দিয়ে রান্না ঘর ও গরুর গোয়ালে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় সাধন বড়ুয়া বিকল্প দরজা দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তিনি গোয়ালে থাকা গরুর গলার রশি কেটে দিয়ে গরুগুলোকে রক্ষা করেন। এসময় পাড়ার লোকজন ছুটে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন। পরে রাউজান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই সাধন বড়ুয়ার রান্নাঘর ও গোয়াল ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

দুর্বৃত্তদের আগুন দেয়ার সংবাদ পেয়ে রাউজান ইউনিয়নের ঘটনা¯স্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নজির আহমদ খান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম। এসময় জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।