মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে হাম আতঙ্কের মধ্যে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝে কিংবা করিডরেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম আতঙ্ক ও মৌসুমি রোগের প্রকোপ বাড়ায় প্রতিদিন শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি হচ্ছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। যেখানে একটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক শয্যা রয়েছে, সেখানে তার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে চিকিৎসা সেবা প্রদানেও তৈরি হচ্ছে তীব্র চাপ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অভিভাবকের উপস্থিতিও বেড়েছে কয়েকগুণ। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শৌচাগারগুলো হয়ে পড়েছে অস্বাস্থ্যকর, যা রোগীদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আয়া না থাকায় বেসরকারি আয়ারা সুযোগ বুঝে জরুরি প্রয়োজনে অক্সিজেন, নেবুলাইজার ও এনেমা (ডোজ) দেওয়ার সময় অভিভাবকদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে চিকিৎসা নিতে এসে বাড়তি আর্থিক চাপে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।
ওয়ার্ডে এক শয্যায় দুইজন শিশুকে রাখার পরও জায়গা সংকটের কারণে কয়েকজন শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
চিকিৎসকরা জানান, যথাসময়ে টিকা না দেওয়ায় হামের বিস্তার ঘটছে। পাশাপাশি তাপপ্রবাহের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও বেড়েছে। এছাড়া সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, মাত্র ৪/৫ জন সেবিকা পুরো ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। মুমূর্ষু শিশুদের অক্সিজেন, নেবুলাইজার, স্যালাইন ও ইঞ্জেকশন দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা সেবার মানকেও প্রভাবিত করছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শয্যা না পেয়ে অনেক সময় শিশুদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা একদিকে যেমন অস্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
তবে আশার কথা হলো, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে আসার যে ঊর্ধ্বগতি ছিল, তা কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নতুন ওয়ার্ড চালু এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।












