‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ’

দীর্ঘ দেড় মাস ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি নেই। দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ৭৮ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়ায় গত এক সপ্তাহে দুবার হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করতে হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেড় মাস চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।

লিভার সিরোসিসের কারণে তার পেটে পানি চলে আসছে প্রতিনিয়ত। সেটা অপসারণ করতে হচ্ছে। প্রায়ই শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অস্বস্তিবোধ করায় সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে তার কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বেলা সোয়া ২টার দিকে একটু ভালো বোধ করায় ফের কেবিনে আনা হয়।

এর আগে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরদিন সকালে একটু ভালো বোধ করায় ফের কেবিনে নেয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। আপাতত তাকে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এই মুহূর্তে ম্যাডামের শারীরিক যে অবস্থা তাকে বিদেশে নিয়ে এডভান্স মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সেন্টারে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজন। বাংলাদেশের হাসপাতালে যেই চিকিৎসাটা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি- দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়া হোক।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে যখন তার জীবন-মরণ সমস্যা তখন তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন বন্দি নন, এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নম্বর নেত্রী। একবার নয় তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী। এখনো কারাগারে থেকেও এই অসুস্থ অবস্থায় এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। এই নেত্রীকে আজ তারা বন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, দেশনেত্রীর যদি সুচিকিৎসা না হয়, তাকে যদি বিদেশে পাঠানো না হয় চিকিৎসার জন্য আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। কারাবন্দিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নজির আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সব বন্দিকে চিকিৎসা দিতে হবে এবং চিকিৎসার জন্য যদি প্রয়োজন হয় তাকে বিদেশেও পাঠাতে হবে। বারবার তার পরিবার থেকে, তার ডাক্তাররা এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি যে, মানবিক কারণে তাকে চিকিৎসার স্বার্থে বিদেশে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হোক।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তি কামনায় বাদ জুমা রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা।