অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভাই-বোনও!

লোহাগাড়ায় ইটভাটা থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিল হারুন, তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভাই-বোনও! লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : হারুনুর রশিদ ওরফে বডিবিল্ডার হারুন। নিরীহ লোকজন ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করে ফাঁদ পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া তার পেশা। ঢাকায় বসে বড় বড় কর্তা ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার কারণে এতোদিন তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেনি কেউ। প্রতারণা, চাঁদাবাজি, জালিয়াতিসহ ভয়ংকর অপরাধের অভিযোগে এখন পুলিশের খাঁচায় বন্দী তিনি। মূলত, এরপর থেকেই; একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে তার অপরাধের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আপন ভাই-বোনও। তার আপন বড় বোন ফরিদা বেগম জানান, দেশের প্রখ্যাত শিল্প প্রতিষ্টান নোমান গ্রুপ থেকে ঘর পাইয়ে দেয়ার নামে জালাল আহমেদ নামের এক ব্যাক্তি থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় হারুন। সেটির প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালায় সে। এখানে থেমে থাকেনি হারুন! আপন ভাই-বোনদের সম্পত্তি নিজেই জবর-দখল করে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে । পৈত্রিক জায়গা-জমির ভাগ চাইতে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানান ফরিদা। অবশ্যই এবার নিয়েছে নিরব চাঁদাবাজি অভিনয় কৌশল : হারুন “হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ” নামের এক মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে গত ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ইটভাটা বন্ধ সংক্রান্তে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লোহাগাড়ায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়। জরিমানা আদায় করেন আরো বেশ কয়েকটি ইটভাটা থেকেও। এই সুযোগে বডিবিল্ডার হারুন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে “হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ” এর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রায় ইটভাটা থেকে কোটি টাকার ওপরে হাতিয়ে নেয়। এমন অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে লোহাগাড়া উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতি ও সচেতন মহল। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবিদুর রহমান মানু জানান, হারুনের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। তার কারণে লোহাগাড়াসহ চট্টগ্রামের শত শত ইটভাটা মালিক ও ব্যবসায়ি হাজার কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোন ধরণের সময় না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়ায় শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছি। বর্তমানে কর্মহীন হয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে ভাটার শ্রমিকরা। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের নিকট প্রতারক ও চাঁদাবাজ হারুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি ১১ মামলার আসামি হারুন ঢাকার মতিঝিল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। পরদিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তার বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।