হেল্প লাইনে ফোন: আ’লীগ নেতার টর্চার সেল থেকে যুবক উদ্ধার

সীতাকুণ্ড এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতাকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে পুলিশের হেল্পলাইন ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে মোহাম্মদ আজম উদ্দিন নামে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আওয়ামী লীগ নেতার টর্চার সেল থেকে উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।  পুলিশ এসময় তুয়ার নামে অপর এক যুবলীগ কর্মীকে আটক করেছে।

টর্চাল সেল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে।

৮ নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।  তিনি বলেন, দলীয় এক নেতার রোষানলের শিকার হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা আজম উদ্দিন।  তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে আহত করেছে। মূমর্ষ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আহত ছাত্রলীগ নেতা আজম উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইদ্রিসের সহযোগী হিসাবে দীর্ঘদিন সাথে ছিলাম। সম্প্রতি তার কয়েকটি অনৈতিক কার্যাকালাপে বিরোধীতা করায় আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তার বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস গত বৃহস্পতিবার আমার ফেসবুক ওয়ালে দেই। এরই সূত্র ধরে শুক্রবার জুমার আগে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে আসে ওই নেতার টর্চাল সেলে। দুপুর তিনটা পর্যন্ত চোখ বেঁধে দফায় দফায় নির্যাতন চালায় আমার উপর। পরে আমার পরিবার ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ওখান থেকে আমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আজাহার বলেন, পুলিশের হেল্প লাইনে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আজমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করি। এ ঘটনায় জড়িত তুষার নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর আগে এই আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে এলাকার এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল।  এ নিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছিল। মামলাটি এখনো চলমান।


এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস জানান, আজম দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মে জড়িত। তাই তাকে শাসন করার জন্য আনা হয়েছিলো।