বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবতার আলোকে নির্ধারণ করতে হবে। বিগত কমিশনের প্রস্তাবিত পে স্কেল জুলাই’২০২৫ থেকে কার্যকর করতে হবে। একই সাথে সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি কমিশন গঠন করতে হবে।
তিনি ৩০ নভেম্বর (রোববার) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান শ্রমিক প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ফেডারেশনের নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী দেশের সেবায় নিজেদের উজার করে দেন। কিন্তু রাষ্ট্র শ্রমিক কর্মচারীদের সাথে অনায্য আচরণ করে আসছে। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মচারীদের বেতনের ফারাক অনেক বেশি। অথচ বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পর্যায়ের বেতন কাঠামো ন্যায্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল। আমরা স্পষ্টভাবে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি শ্রমিক কর্মচারীদের সকল ন্যায্য অধিকার ও পাওনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করার। আমরা মনে করি সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা একই হওয়া উচিত। একই পদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেতন কাঠামো ভিন্ন হওয়া মানেই বৈষম্য তৈরি হওয়া। আমরা বাংলাদেশে কোন বৈষম্য দেখতে চাই না। সকল শ্রমিকদের মাঝে সমান অধিকার চাই। শ্রমিক কর্মচারীদের দক্ষতার আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায্য পদোন্নতি প্রদান করতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিকদের যে বেতন কাঠামো রয়েছে তা বর্তমান জীবন যাপনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই আর দেরি না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কমিশন গঠন করতে হবে। সকল প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান করতে হবে। সকল শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। উৎসব ভাতা ও বোনাস বিলম্ব করা গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের উপরে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অবসরকালীন সময়ে পেনশন নিয়ে শ্রমিকদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়। তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি, পেনশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে হবে। যে সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশনের ব্যবস্থা নেই সেখানে অবিলম্বে পেনশন চালু করতে হবে।











