টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে রাউজানে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

শফিউল আলম, রাউজান: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানিতে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিস্তিন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন খেটে-খাওয়া নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া মানুষজন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪২ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক, রাউজান-নোয়াপাড়া সড়ক ও হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, দোস্ত মেহাম্মদ চৌধুরী সড়ক অদুদিয়া সড়ক, জগৎ ধর সড়ক, নন্দী পাড়া সড়ক, বণিক পাড়া সড়ক, ক্ষেত্রপাল বিগ্রহ মন্দির সড়ক সহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রধান সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে যান চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাউজানের জানালিহাট ও ক্ষেত্রপাল বিগ্রহ মন্দির, ফকির হাট বাজার, সুলতানপুর কাজী পাড়া, বণিক পাড়া, নন্দীপাড়া, বড়বাড়ী পাড়া, ছত্রপাড়া, সাপলঙ্গা, সাহানগর, দলিলাবাদ, হাসান খীল, দক্ষিন হিংগলা, হাজী পাড়া, ঢেউয়া পাড়া,শরীফ পাড়া দাশ পাড়া, পালিত পাড়া, ছিটিয়া পাড়া, পশ্চিম সুলতানপুর, পুর্ব গহিরা, গহিরা মোবারক খীল, পশ্চিম গহিরা, দক্ষিন সর্তা, দলই নগর, কোতোয়ালী ঘোনা, নদীম পুর, ফতেহ নগর, পশ্চিম ডাবুয়া, লাঠিছড়ি, কেউকদাই, রামনাথ পাড়া, কান্দি পাড়া, পুর্ব ডাবুয়া, উত্তরসর্তা, জানিপাথর, লেলাঙ্গারা, ইদিলপুর পশ্চিম বিনাজুরী, জাম্মইন, পশ্চিম রাউজান, খলিলাবাদ, মঙ্গলখালী, পশ্চিম রাউজান জারুল তলা, পশ্চিম কদলপুর, কদলপুর, পাহাড়তলী চৌমুহনী, মাহামুনি, বহলপুর, উনসত্তর পাড়া, খৈয়াখালী, উত্তর গুজরা, বড়ঠাকুর পাড়া, হোয়ারা পাড়া, বদু মুন্সি পাড়া, মীরধার পাড়া, সরকার পাড়া, মগদাই, কাগতিয়া, পটিয়া পাড়া, সামমাহলদর পাড়া, কচুখাইন, ছমিদর কোয়াং, উভলং, ঝিকুটি পাড়া, মোকামী পাড়া, গুহ পাড়া শেখ পাড়া, দেওয়াজী ঘাট, হার পাড়া, মদুনাঘাট, বইজ্যাখালী মইমকরম , সওদাগর পাড়া, উরকির চর, আবুল খীল, খলিফার ঘোনা, পাচখাইন, গশ্চি, কোয়েপাড়া এলাকার বাসিন্দ্বদের বসতবাড়ী ফসলী জমি চলাচলের সড়ক পানিতে ডুবে গেছে । রাউজান ফকির হাট বাজার, মুন্সির ঘাটা, জলিল নগর বাস ষ্টেশন, নাতোয়ান বাগিচা, মীর বাগিচা, পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার, নোয়াপাড়া পথের হাট বাজার, জানালী হাট বাজার পানিতে ডুবে গেছে । পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানিতে ডাবুয়া খালের ক্ষেতপাল বিগ্রহ মন্দিরের পাশে সহ কয়েকটি স্থানে বাধ ভেঙ্গে বাঁধ গেছে । রাউজানের খলিলাবাদ এলাকায় রাউজান খালের ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানি প্রবেশ করছে । হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দিয়ে পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানি ও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে সড়ক ও বসতবাড়ী, ফসলী জমি তলিয়ে গেছে । কর্ণফুলী নদী, হালদা নদী, সর্তা খাল, ডাবুয়া খাল সহ কয়েকটি খাল দিয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর, জলাশয় প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্য খামারিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাসুম কবির জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানতে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাউজানের পাহাড়তলীর দাশপাড়া, ডাবুয়া সহ বেশ কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতার শিকার অসহায় মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যে সকল এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো পানি নেমে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিটি ইউনিয়নের দায়িত্বরত প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।