কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় রাঙামাটি জেলাধীন কাপ্তাইয়ে টানা চার দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রাণহানি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মাইকিং করা হচ্ছে। তবে মানুষজন এখনও ঝু্ঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনি, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া, বরইছড়ি মারমা পাড়াসহ চন্দ্রঘোনা ও ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে গত মঙ্গলবার উপজেলার কর্ণফুলী কলেজ এলাকায় পাহাড় ধসে ফরহাদ ইসলাম ছোটন(৫) ও আরিয়ান ইসলাম জোহান(১০) নামের দুই শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া একইদিন উপজেলার বালুচর এলাকায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় ধসে পড়ে প্রায় ৭ ঘন্টা ধরে সকল প্রকার যসন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৩ জুন কাপ্তাইয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে তখন ১৭ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। ওইধরনের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্য প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।
এমতাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাপ্তাই উপজেলায় প্রাথমে ১৮টি এবং পরে আরও ২টি বাড়িয়ে মোট ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে। এরমধ্যে কর্ণফুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫০ জন, কর্ণফুলী স্টেডিয়াম আশ্রয় কেন্দ্রে ৩০ জন এবং কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রায় কেন্দ্রে ২৩ জন আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যান্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলো হলো, মিতিঙ্গাছড়ি পাড়া কেন্দ্র, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, খ্রিষ্টিয়ান মিশন হসপিটাল ক্লাব, ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাইখালী রিফিউজি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারিগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছংড়াছড়ি আবাসিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ, চিৎমরম চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াগ্গা মুরালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াগ্গা সড়ক ও জনপদ অফিসার রেস্ট হাউস এবং ওয়াগ্গা শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসন থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতরা যেন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পাহাড়ের ওপরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানো যায়।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “আমরা পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। ২০১৭ সালের মতো কোনো মর্মান্তিক পরিণতির পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছে। যারা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ- প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসুন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সবসময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং দুর্যোগকালীন সময়ে যে কোনো সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।












