অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

স্পেনের দাপটের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি অস্ট্রিয়া। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লা রোহা। জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, আর জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন পেদ্রো পোরো।

লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩ জুলাই) শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৬৫ শতাংশ সময় সময় বল দখলে রেখেছিল স্পেন। পুরো ম্যাচে ২২টি শট নিয়ে ১০টি গোলমুখে রেখেছিল তারা। বিপরীতে ৫টি শট নিলেও কোনোটি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি অস্ট্রিয়া।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। প্রথম মিনিটেই লামিন ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার। তৃতীয় মিনিটে গ্রেগরিশের উদ্দেশে আসা বিপজ্জনক ক্রস কেটে দেন পাও কুবারসি। এরপর ইয়ামাল, দানি ওলমো ও আয়মেরিক লাপোর্তের প্রচেষ্টায় একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা মিলছিল না। একাদশ মিনিটে বক্সে কনরাড লাইমারের চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল পড়ে গেলেও পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন রেফারি। ১৭ মিনিটে মার্সেল সাবিৎসারের ইনসুইং ক্রস অল্পের জন্য গ্রেগরিশের নাগালের বাইরে চলে যায়।

২৯ মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে দানি ওলমো দুর্দান্ত দক্ষতায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে স্টেফান পসের নিখুঁত ট্যাকলে বেঁচে যায় অস্ট্রিয়া। সেই কর্নার থেকেই গোলরক্ষকের ফিরিয়ে দেয়া বল জালে জড়ান মার্ক কুকুরেয়া। তবে গোলরক্ষকের ওপর পাও কুবারসির ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ৩২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের বাঁ পায়ের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন শ্লাগার। তবে চার মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি অস্ট্রিয়ার। পেদ্রির পাসে বাঁ দিক দিয়ে উঠে আসা মার্ক কুকুরেয়ার নিখুঁত নিচু ক্রস ১২ গজ দূর থেকে এক স্পর্শে জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওইয়ারসাবাল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ২৫ গজ দূরের ফ্রি-কিকে ক্রসবারে বল লাগান আলেক্স বায়েনা। ফিরতি বলে ইয়ামালের নিশ্চিত গোলের সুযোগও অসাধারণ সেভে নষ্ট করেন শ্লাগার।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন। ওইয়ারসাবাল, রদ্রি ও ইয়ামালের একাধিক প্রচেষ্টা প্রতিহত করে কিছুক্ষণ দলকে লড়াইয়ে রাখেন শ্লাগার। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নেমে সাশা কালাইজিচ সাবিৎসারের ক্রস থেকে একটি ভালো সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। দীর্ঘ সময় বলের দখল ধরে রাখার পর আলেক্স বায়েনার পাসে আক্রমণ গড়ে ওঠে। দানি ওলমোর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে আবার বায়েনার কাছেই ফিরে আসে। বাঁ দিক থেকে তার নিখুঁত ক্রসে পিছন দিক থেকে উঠে এসে শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়ান পেদ্রো পোরো। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল তার প্রথম গোল।

শেষদিকে অস্ট্রিয়া কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও চুকুয়েমেকার শট এবং স্টেফান পসের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮৫ মিনিটে স্পেনের আরেকটি দারুণ দলীয় আক্রমণে ইয়ামালের শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডেভিড আলাবা। ৮৯ মিনিটে ম্যাচে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ওইয়ারসাবাল। গোলরক্ষক উনাই সিমনের পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ডান থেকে বাঁ দিকে দ্রুত বল চালাচালি করে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে স্পেন। শেষ মুহূর্তে মার্ক কুকুরেয়ার অসাধারণ থ্রু-পাস ধরে নিখুঁত টাইমিংয়ে দৌড়ে গিয়ে শান্তভাবে শ্লাগারকে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল, পূর্ণ করেন নিজের জোড়া গোল।

বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তির বার্তা আরও একবার জানিয়ে দিল স্পেন। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, নিখুঁত পাসিং ও ধারালো আক্রমণে অস্ট্রিয়াকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ ভোরের ম্যাচে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার জয়ী দল।