‘বাংলাদেশ পুলিশ সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর’

চট্টগ্রাম জেলার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচিতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম।

সভার শুরুতে উপস্থিত পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ নিজেদের পরিচয় প্রদান করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

পুলিশ সুপার মহোদয় সকলের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি মানসম্মত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

পুলিশ সুপার মহোদয় উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা পালন, স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা জনবান্ধব, পেশাদার ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

উপস্থিত সকলেই ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।