মরিচ্যা থেকে মিয়ানমার পাচারের সময় ১০০ বস্তা সার জব্দসহ আটক ২

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাচারের জন্য সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের একটি চালানসহ ২ পাচারকারিকে আটক করেছে। বিসিআইসির আমদানি করা এ পরিমাণ সারের চালান চট্টগ্রাম থেকে রাখাইনে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে বিজিবি সদস্যরা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা বিজিবি তল্লাশি ফাঁড়িতে সারবোঝাই একটি মিনি ট্রাক আটক করে।

আটকদের একজনের নাম মোহাম্মদ জাহেদ (২৫)। তিনি উখিয়ার বালুখালী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ও অপরজন মিনি ট্রাকের চালক নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা সৈয়দ করিম (২৮)। এ ব্যাপারে রামু থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাখাইনে ইউরিয়া সারের ব্যাপক চাহিদার কারণে পাচার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। প্রতি বস্তা সারের মূল্য রাখাইনে ৫/৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশে বস্তা প্রতি সারের সরকারি মূল্য হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকা। সারের ডিলারগণ চট্টগ্রামের খোলা বাজার এবং বিসিআইসি সংশ্লিষ্ট লোকজনের নিকট থেকে প্রতি বস্তা ২ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে পাচার করছে উখিয়ার আনজুমান সীমান্ত দিয়ে। বস্তাপ্রতি পাচারের খরচ এক হাজার টাকা হলেও আরও ২/৩ হাজার টাকা মুনাফা হয়ে থাকে পাচারকারিদের। একমাত্র মুনাফার লোভে পাচারকারিরা নাফনদ পাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সার পাচার অব্যাহত রেখেছে।

কক্সবাজারের বিজিবি রামু-৩০ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে বিজিবি সদস্যরা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা বিজিবি তল্লাশি ফাঁড়িতে সারবোঝাই একটি মিনি ট্রাক আটক করে। পরবর্তীতে রামু ও উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদ্বয়ের উপস্থিতিতে মিনি ট্রাক থেকে ১০০ বস্তা সারসহ দুজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারের সরকারি মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, রামু উপজেলা সদরের ফতেখারকুল ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স রামু স্টোরের মালিকানাধীন গুদাম থেকে সারের বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সীমান্ত এলাকায়। আটক সারের পাচারকারি সিন্ডিকেট এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি। তবে পাচারকারি সিন্ডিকেটের সবাই উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহেদ আলম জানিয়েছেন, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সার ও ইয়াবা পাচারকারি সিন্ডিকেট রাখাইনে পাচার করার জন্য সারের চালানটি নিয়ে যাচ্ছিল আনজুমান সীমান্তে।

বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপ-পরিচালক (ডিডি) বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে সারের চালানটি রাখাইনে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রামু উপজেলা সদরের গুদামটি আমি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছি।

তিনি জানান, কক্সবাজারে কেবল একজন ডিলারের কাছে এত বিপুল পরিমাণের সার মজুদ নেই। রাখাইনে পাচারের জন্য সারের বস্তা চট্টগ্রাম থেকে এনে রামুতে হয়তোবা মজুদ করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে আমদানির সার পাচারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছেন বলে জানান।

সার পাচারের বিষয়ে উখিয়ার বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জাহিরুল ইসলাম জানান, রাখাইনে সারের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজিবি টহল দলের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচারকারিরা নানা কৌশলে সারের চালান পাচার করে আসছে। প্রতি রাতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নাফনদ দিয়ে পাচারকালে ৩০/৪০ বস্তা করে সার জব্দ করে থাকেন। ইয়াবা ও সার পাচার রোধে বিজিবি এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। তবুও পাচারকারিদের পাচার থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানির এত বড় সারের চালানের নেপথ্যে সীমান্তের পাচারকারি সিন্ডিকেট ছাড়াও কৃষি বিভাগ ও বিসিআইসির কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।