স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। উৎসবকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে যেমন জমজমাট কেনাকাটা চলছে, তেমনি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ঈদবাজারের প্রধান ঠিকানা হয়ে উঠেছে ফুটপাত।

নগরের নিউমার্কেটুরেয়াজউদ্দিন বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়ক এখন স্বল্প আয়ের মানুষের কেনাকাটার অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেট, বিপ্লব উদ্যানের পাশের সড়ক, আগ্রাবাদ, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন মোড় ও সড়কের ফুটপাত এখন ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর।

শনিবার (১৪ মার্চ) এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের সারি সারি অস্থায়ী দোকানে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতজুড়ে বসা অস্থায়ী দোকানগুলোতে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি, শিশুদের পোশাক, জুতা ও নানা ফ্যাশনের সামগ্রী তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের আগ্রহ বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ক্রেতার চাপ এবং বিক্রিও হচ্ছে ভালো। তবে ফুটপাতজুড়ে দোকান বসায় অনেক জায়গায় পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবুও উৎসবের আমেজে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মধ্যেই ঈদের আনন্দ স্পষ্ট।

নিউমার্কেটুরেয়াজউদ্দিন বাজার সংলগ্ন এলাকায় ক্রেতাদের ভিড়ে অনেক জায়গায় হাঁটার জায়গাও নেই। সড়কের পাশজুড়ে বসা এসব অস্থায়ী দোকানে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদের জন্য নানা ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি, শিশুদের পোশাক থেকে শুরু করে জুতো—সবই মিলছে তুলনামূলক কম দামে।
পটিয়া থেকে আসা কুলসুম বেগম বলেন, বড় বিপণিবিতানে গিয়ে কেনাকাটা করার মতো সামর্থ্য তার নেই। তাই পরিবারের জন্য ফুটপাত থেকেই পোশাক কিনতে এসেছেন। এখানে দাম কিছুটা কম হওয়ায় সন্তানদের জন্য নতুন জামা-জুতা কিনতে পেরে তিনি বেশ খুশি। নিজের ও স্বামীর জন্য কিছু কেনেননি। কয়েকদিন পর স্বামীর উপার্জনের টাকা দিয়ে তারা পটিয়া থেকেই শাড়ি-লুঙ্গি কিনবেন।

তার সঙ্গে থাকা তিন সন্তানও বেশ খুশি। তাদের হাতেই রঙিন আইসক্রিম। কেনাকাটা শেষ করে তারা প্রথমে শাহ আমানত সেতু এলাকায় যাবেন, সেখান থেকে অন্য গাড়িতে পটিয়ায় ফিরে যাবেন।

ফুটপাতের শিশুদের কাপড় বিক্রেতা হালিম ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি জানান, রমজানের শুরুতে বিক্রি কম থাকলেও শেষের দিকে এসে ক্রেতার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অল্প লাভ পেলেই তিনি কাপড় বিক্রি করে দিচ্ছেন। চাঁদ রাত পর্যন্ত যা বিক্রি করতে পারবেন, তা নিয়েই সেদিন রাতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।

ময়মনসিংহের বাসিন্দা হালিম জানান, বাড়িতে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কিনেছেন। সেমাই ও চিনির জন্য কিছু টাকা আগেই বাড়িতে পাঠিয়েছেন। ঈদের দিন সন্তানরা বাবার অপেক্ষায় থাকবে।

ফুটপাত ঘুরে নিম্নবিত্ত মানুষের অল্প প্রাপ্তিতেও যে অসীম আনন্দ লুকিয়ে থাকে, সেই অনুভূতিই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই ঈদবাজারে।