ঈদগাঁওয়ে ৩ দোকান পুড়ে ছাই, উল্টে গেল ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজারে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন লাগার আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়া এবং পাশের একটি অফিসে লুটপাটের ঘটনায় পরিকল্পিত বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে রামু ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি আগুন নেভাতে গিয়ে মহাসড়কে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমবেশি ২ জন দমকল কর্মী আহত হয়েছেন।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ঈদগাঁও বাজারের দক্ষিন পাশে আধুনিক হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার জাহেদ হোসেনের মালিকানাধীন একটি মার্কেটের তিনটি দোকানে আগুন লাগে। এতে নুরুল আজিমের চিরাই কাঠের দোকান, আমির আলীর কুলিং কর্নার এবং শামসুল আলমের ফার্নিচার দোকান পুড়ে যায়।

চিরাই কাঠের দোকান থেকে কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও কুলিং কর্নার ও ফার্নিচার দোকানের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে, প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জসিমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগুন লাগার মুহূর্তে কজন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। এতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুলিং কর্নার মালিক আমির আলী বলেন, দোকান দুই দিন ধরে বন্ধ ছিল। স্বাভাবিকভাবে আগুন লাগার কোনো কারণ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক।

তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ফার্নিচার দোকানের পাশের একটি অফিসে দা ও কিরিচ দিয়ে দরজা কেটে তালা ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতিগ্রস্থ জাহেদ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘ বছর ধরে ওই জমি ও দোকান ভোগদখলে রয়েছেন। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ আপোষের নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ঈদগাঁও থানার এএসআই হিমেল বড়ুয়া বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।