রাউজানে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ: পরিদর্শনে নাগরিক সমাজ

শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর পৌরসভা এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এক নাগরিক প্রতিনিধিদল।

১ ফেব্রুয়ারী (রোববার) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থলে যান।প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্ট (ইখঅঝঞ) চট্টগ্রাম ইউনিটের স্টাফ আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে (সজীব) ও সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরতি শীলের পোড়াভিটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন,“নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলা হলেও ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। প্রশ্ন হলো—এই সংখ্যালঘু ভোটাররা কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন?”তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।”ব্লাস্টের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা বলেন, “একটি মামলার (নং এজ-২৬১/২৫) পুলিশ প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে দাখিল হয়নি। এভাবে বিলম্ব হলে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।”ভুক্তভোগী মিঠুন শীল বলেন, “ঘটনার দিন বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আমরা কোনোমতে বেড়া কেটে বের হয়ে প্রাণে বাঁচি। আগুনে আমার পাসপোর্ট, কাতার যাওয়ার ওয়ার্ক পারমিট ও বিমান টিকিট পুড়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সহায়তা পাইনি।”ভুক্তভোগীরা জানান, তফসিল ঘোষণার পর এলাকায় অন্তত ৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তারা এখনও রাতে গ্রাম পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন।