চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা এইচডব্লিউপিএল এর যৌথ উদ্যােগে “এইচডব্লিউপিএল পিস গভর্নেন্স ফোরাম: শান্তি বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ” শীর্ষক এক সেমিনার সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টায় চবি এ. কে. খান আইন অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজকের সেমিনারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। শান্তি প্রত্যেক মানুষের জীবনে প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সকলেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়। সকালে ঘুম ভাঙলেই ভাবি দিনটা কিভাবে শান্তিতে কাটবে। তবে শান্তিতে থাকার জন্য আমাদের সেসব প্রক্রিয়া মেনে চলা দরকার তা অনুসরণ করতে হবে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় শান্তি ও সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে একাডেমিক চর্চার পাশাপাশি এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আজকের সেমিনারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মতামত সুপারিশ উঠে আসবে, যা কার্যকরভাবে কাজে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন মাননীয় উপাচার্য। মাননীয় উপাচার্য উপস্থিত আগত অতিথিসহ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শান্তি ছাড়া একটি দেশ উন্নতি করতে পারে না। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এবং সর্বত্র শান্তির বজায় থাকার জন্য আইনের শাসন, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে আজকের সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
প্যানেলিস্টের বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি ‘শিক্ষা ও শান্তি’ শীর্ষক আলোচনা পেশ করেন। শিক্ষার পাশাপাশি শান্তি কিভাবে বজায় রাখা যায় এবং উভয়ই সমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাধা ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন তিনি। বিভিন্ন দার্শনিকের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে শিক্ষা ও শান্তি সম্পর্কে তিনি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, শান্তি ও সংস্কৃতি একটি সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শান্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠা হবে না, এর জন্য পরিকল্পনা মাফিক চেষ্টা করতে হবে। একটি সমাজে নানা ধরনের ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ থাকবে, সবাইকে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ফোরামে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত হয়ে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. এ.কে.এম. মাহফুজুল হক (মাহফুজ পারভেজ) এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সহিদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে এইচডব্লিউপিএল (HWPL) গ্লোবাল ৩ শাখার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইপিওয়াইজি (IPYG) সমন্বয়কারী জনাব জ্যাকব বে এবং শান্তি শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়কারী জনাব বেঞ্জামিন কিম। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রকিবা নবী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সানজিদা আখতার দোলা।
‘শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মানবতার দায়িত্ব পালন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, আইন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, গবেষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।












