হালদা নদীতে প্রথম ধাপে ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে ১৫২ কেজি রেণু উৎপাদন

শফিউল আলম, রাউজান ঃ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার পর ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ করার পর ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ফুটানোর পর ডিম থেকে রেনু উৎপাদন করেছে। মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে হালদা নদী থেকে নদীর প্রথম গত ২৯ এপ্রিল (বুধবার) রাতে ও গত ৩০ এপিল বৃহস্পতিবার দিনে ও দিবাগত রাতে জোয়ারের সময়ে হালদা নদী থেকে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেন ডিম ষংগ্রহকারীরা। ডিম সংগ্রহ করার পর হ্যচারী ও নদীর তীরে খনন করা মাটি কুয়ায় সংগৃহিত মা মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎ]পাদন করেন ডিম সংগ্রহকারীরা। সংগৃহিত ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে ১শত ৫২ কেজি রেনু উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানান রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার তোফাজ্ঝেল হোসেন ফাহিম। হারধা নদীর মা মাছের ডিম থেকে ফুটানো রেনু হ্যচারী ও নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়া থেকে ৫ মে মঙ্গল বার শেকে বিক্রয় শুরু করবেন বলে জানান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার তোফাজ্ঝের হোসেন ফাহিম।

মাছুয়া ঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম বলেন, গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সময়ে ও রাত ১১টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত সময়ে জোয়ারের সময়ে হালদা নদীর মাছুয়া ঘোনা নদীর বাকঁ থেকে ডিম সংগ্রহ করি। ডিম সংগ্রহ করার পর ডিম মাছুয়া ঘোনা সরকারী হ্যচারীর কুয়ায় রেখে ডিম থেকে রেনু ফুটানো হয়েছে ৫ মে (মঙ্গলবার) থেকে রেনু বিক্রয় করা হবে। ডিম সংগ্রহকারীরা হাটহাজারীর মাছুয়া ঘোনা, শাহ মাদারী, মদুনাঘাট, রাউজানের গহিরা মোবারক খীল এলাকার চারটি সরকারী হ্যাচারী ও রাউজানের পশ্চিম বিনাজুরী আই, ডি, এফ এর বেসরকারী একটি হ্যাচরী সহ ৫টি হ্যাচারীর কুয়ায় ডিম থেকে রেনু উৎপাদন কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। এছাড়া ও হালদা নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ায় হালদা নদীর বিভিন্ন স্পটে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ফুটানোর কাজ করছে । হালদা নদীর রাউজানের আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, মগদাই, কাসেম নগর, কাগতিয়া, পশ্চিম বিনাজুরী, সিপাহির ঘাট, অংকুরী ঘোনা, দক্ষিন গহিরা, হাটহাজারীর মদুনাঘাট, কুমার খালী, শাহ মাদারী, মাছুয়া ঘোনা, আমতোয়্,া গড়দুয়ারা, সহ কয়েকটি স্পটে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে।

উল্লেখ্য, গত মৌসুমে মে মাসের ২৯ তারিখ মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপ্রিল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। গত মৌসুমে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছিল। হালদা নদীতে মা মাছের ডিম নমুনা ডিম বলা হলে ও মৌসুমে প্রথবারের মতো ডিম ছাড়ার পরিমাণ বেশী। আগামী আমবস্যার তিথিতে আবারো পুরোদমে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। চট্টগ্রাম কন্টেনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে কাল বৈশাখীর সময়ে ভারী বর্ষন ও বজ্রপাত হওয়ায় নদীতে পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানি প্রবাহিত হওয়ায় পুর্ণিমার তিথিতে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে মৌসুমে প্রথম ধাপে। আগামী আমবস্যার তিথিতে প্রবল বর্ষণ ও বজ্রপাত হলে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়বে বলে আশা করছি।