জিয়াবুল হক: কক্সবাজারের টেকনাফে নাফনদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সা মং চিং চাকমা (৪০) নামে এক আদিবাসী ব্যক্তি গত ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং উলুবনিয়া এলাকার নাফনদী সীমান্তে এই নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, মিয়ানমারের কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। নিখোঁজ সা মুং চিং চাকমা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বা ঘোনার উগবা চাকমার ছেলে।

নিখোঁজ সা মুং চিং চাকমার স্ত্রী চামমি ইয়াউ চাকমা বলেন, আমার স্বামী সা মং চিং চাকমা তার আত্মীয় ইবা চিং চাকমাকে সঙ্গে নিয়ে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নাফনদীর উলুবনিয়া ও পালংখালি সীমান্ত এলাকায় কাঁকড়া ধরতে যান। পরে ইবা চিং চাকমা ফিরে এলেও আমার স্বামী আর বাড়িতে ফেরত আসেনি।
তিনি বলেন, স্বামী বাড়িতে না ফেরায় আমরা নাফনদীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন হোয়াইক্যংয়ের উলুবনিয়া ও পালংখালি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাকে আটক করে নিয়ে গেছে।
চামমি ইয়াউ বলেন, আমার স্বামীই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। আমাদের চার সন্তান এক ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় মেয়েটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, আর ছেলেটি এখনো ছোট। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাব, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় করব তা বুঝতে পারছি না। আমি আমার স্বামীকে জীবিত অথবা মৃত, যেভাবেই হোক ফিরে পেতে চাই।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাঘোনার বাসিন্দা আদিবাসী নেতা আলো চাকমা বলেন, কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে নিখোঁজ সা মং চিং চাকমা অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র একজন মানুষ। তিনি কাঁকড়া ধরে কোনোমতে তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি ও কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেভাবেই হোক নিখোঁজ সা মং চিং চাকমাকে দ্রুত উদ্ধার করা হোক।
তিনি আরও বলেন, সা মং চিং চাকমার নিখোঁজের বিষয়টি উখিয়া ও টেকনাফ থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সা মং চিং চাকমা নামে এক আদিবাসী ব্যক্তি নাফনদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।












