স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সময়ে নিয়মিত টিকা না দেয়ার কারণেই শিশুদের বড় একটি অংশ হামে আক্রান্ত হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আজ থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হলো হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন।
এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার সব খাতেই লুটপাট করেছে এবং স্বাস্থ্যখাতে কোনো টাকা রেখে যায়নি। আর কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম নিতে দেয়া হবে না। রূপগঞ্জে ৫০ বেডের হাসপাতালকে ১০০ বেডে উন্নত করা হবে, আগামী বাজেটে এ নিয়ে সব তথ্য তুলে ধরা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু মা স্টাইল করে, কিছু মা কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ায় না, যার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে আর হামের মত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
আজ থেকে তৃতীয় দফায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। আগামী চার সপ্তাহ (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত) কেন্দ্রগুলাতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ টিকা দেয়া হবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় টিকা প্রদান করা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এসব উপজেলায় ২১ লাখ ৮০ হাজার ১০৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলমান এ কর্মসূচির আওতায় ৫ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯২ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়েছে।
সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, টিকার কোনো ঘাটতি নেই, সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। গ্রাম এলাকায় ও আমাদের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত আছে, তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত নির্বিঘ্নে আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব।
ইপিআই থেকে জানানো হয়, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হচ্ছে। আগে হাম-রুবেলার টিকা পেয়ে থাকলেও ওই বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ টিকা দেয়া হবে।
টিকা দেয়া হবে নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ি মাদরাসা, মক্তব, এতিমখানা ও শিশু আশ্রমে। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত পাঁচ বছরের কম বয়সী ছাত্র-ছাত্রীকে টিকা দেয়া হবে। এছাড়া যেসব শিশু স্কুলে যায় না কিংবা স্কুলে টিকা নেয়নি, তারা যে এলাকায় থাকে, তাদেরকে সেখানকার নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দেয়া হবে।
ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিটি উপজেলার হাসপাতাল, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইন চলার সময় এসব কেন্দ্র থেকে রুটিন টিকাও দেয়া যাবে।
ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও দুর্গম এলাকার জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে ইপিআই। তাদের মধ্যে আছে দোকান বা বাজার, কারখানা, চাল কলের মতো স্থানে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশু, বেদে বহরের শিশু, পথশিশু, হাসপাতালে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশু, জেলখানায় মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশু, বস্তির শিশু। এ অতিরিক্ত কেন্দ্রগুলোয় টিকাগ্রহীতার সুবিধামতো সময়ে (বিকেলে বা রাতে) টিকা দেয়া হবে।












