সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার: কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে দুইশত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে কক্সবাজারে সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল পবিত্র ঈদ উল আযহার উপহার তুলে দেন। ”শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী এই উৎসবমুখর কর্মসূচি।

২৪ মে (রবিবার) সকালে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ছিল ঈদের নতুন পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ, দেয়ালিকা উন্মোচন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রথমে নিবাসী শিশুদের লেখনিতে ‘‘আলোর পথযাত্রী” শিরোনামে দেয়ালিকার ত্রয়োবিংশ সংখ্যা উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সুবিধা বঞ্চিত সকল শিশুদের জন্য যোগ উপযোগি প্রকল্প গ্রহন করে শিশুর মুখে হাসি ফোঁটাতে চাই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মামনুন আহমেদ অনীক। প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন- কেন্দ্রের শিশুদের হাস্যোজ্জল মুখ দেখে বুঝা যায় যে, তারা বেশ ভাল আছে। তারাই একদিন “সবার আগে বাংলাদেশ” প্রত্যয় বাস্তবায়নে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নিবাসী শিশু নিজাম উদ্দিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর উপপরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উশু প্রদর্শনী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিরা শিশুদের মাঝে ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং নিবাসী শিশুদের তৈরিকৃত পুঁতির তৈরি তাজমহলের প্রতিকৃতি উপহার দেয়া হয়। আনন্দঘন মুহূর্তকে আরও সমৃদ্ধ করেছে নিবাসী শিশুদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে।
উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন- আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। পুরো আয়োজন জুড়ে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কেন্দ্র প্রাঙ্গণ।