সাদিয়া আফরিন

প্রকৃতির পালা বদলের খেলাতে বাহারি ঋতু আমরা উপহার পাই । শীতের রুক্ষতা সরে গিয়ে প্রকৃতি সাজে নতুন রূপে,নতুন আবেশে। যেন সদ্য বেড়ে উঠা কিশোরী,ধীরে ধীরে যৌবনের দিকে যাচ্ছে । বৃক্ষে বসে নতুন কুড়ির মেলা, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ, ফুলে ফুলে মৌমাছি উড়া দেখেই অবলোকন করতে পারি বসন্তের আগমন। এ দৃশ্য যেন হৃদয়ে শিহরণ তোলে,সমীরনে আনে ভিন্ন আবেশ।
ধীরেধীরে ফুলের কুড়ি প্রস্ফুটিত হয়ে পূর্ণতা পায়। গাছ হয়ে উঠে তখন পুরোপুরি সার্থক,যেন সকল সৌন্দর্য ঢেলে দিতে থাকে প্রকৃতির মাঝে। আর ফুলে ফুলে সেজে প্রকৃতি হয় পূর্ণ যুবতী। কখনো প্রকৃতি হয় শিমুলের রঙে টকটকে লাল,কখনো কৃষ্ণচূড়ার রঙে কমলা- হলদের, কখনো বা পলাশের আগুন ঝড়া রঙে রঙিন হতে থাকে।পুরো প্রকৃতির মাঝে চাঁপা,জুঁই,বেলী, কামিনী,গন্ধরাজ সৌরভ ছড়াইতে থাকে আপন গুণে।
তখন সমীরন হয় মাতাল,আর প্রকৃতিপ্রেমীরা হয় রোমাঞ্চে মত্ত। তাইতো গাইতে ইচ্ছে করে
“বাতাসে বহিছে প্রেম
নয়নে লাগিল নেশা
কারাযে ডাকিলো পিছে
বসন্ত এসে গেছে”। ( কথাও সুর:অনুপম রায়)
বসন্তের ফুলের সৌন্দর্যে ও সৌরভে মুগ্ধ হয়ে কত প্রকৃতিপ্রেমী কাননে -কাননে গড়ে তুলেছেন ফুলের সমারোহ। আর সৃষ্টি করেছেন বিভিন্ন ফুলের উৎসব।। পুরো মাস জুড়ে পালন হয় বসন্তের বিভিন্ন উৎসব।
প্রকৃতির ঐশ্বর্য থেকে যেন কোন সৃষ্টি বঞ্চিত হয়না। এই ঋতুতেই মৌমাছি, ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে তার বংশগতি ধারা অব্যাহত রাখে। এই সময়ে ফুল ব্যবসায়ীদেরও চরম আনন্দের সময়। তাঁরা মনের আনন্দে ফুল চাষ ও বিক্রি করে থাকেন।
এই ঋতুর রূপ,সমৃদ্ধির যেন শেষ নেই। সাহিত্যকে ও করেছেন নানাভাবে সমৃদ্ধ । তাইতো গীতিতে,কাব্যে বসন্তের প্রকাশ ঘটেছে বহুরূপে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “মাধবী” কবিতায় বসন্ত কে প্রকাশ করেছেন এভাবে,
“বসন্তের জয়রবে
দিগন্ত কাঁপিল যবে
মাধবী করিল তার সজ্জা।
মুকুলের বন্ধ টুটে
বাহিরে আসিল ছুটে,
ছুটিল সকল তার লজ্জা। কবি এখানে
বসন্তের আগমনে মাধবি লতা ফুটে উটার সৌন্দর্যকে বুঝিয়েছেন। কুড়ি র আবরণ ভেদ করে ফুল কিভাবে প্রস্ফুটিত হয় সে ইঙ্গিত ও দিয়েছেন। বসন্তের রূপে, গুণে,সবুজ পল্লবের ছোঁয়াতে প্রকৃতির মাঝে নেমে আসে সতেজতা ও প্রফুল্লতা। এই আবেশ মানব হৃদয়ে তথা মানব জীবনে ও ছড়িয়ে পড়ে।
বলা বাহুল্য বসন্ত সৌরভে, সৌন্দর্যে,সাহিত্যে, সতেজতায়,কোকিলের কুহুতানে বাংলা প্রকৃতির এক প্রেমময় ঋতু।
লেখক : শিক্ষক












