নাছিমা আকতার শিল্পী
আমি ও আমার দেখা বাংলাদেশের রাজনীতি। জন্মলগ্ন থেকে শুনে আসছি আমার বাংলাদেশ একটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এই দেশ জনগণের। এই দেশে রাষ্ট্র প্রধান গঠিত হয় ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।।মনের অজান্তেই একটি ভালো লাগা কাজ করে।
এই কথা গুলো শুনে। হ্যাঁ আমি গর্ববোধ করি আমার জন্মভূমি নিয়ে।
একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আমার আছে।

এই দেশের সেবায় নিয়োজিত মানুষ গুলো কতোই না মহান। মনে মনে স্বাদ জাগে আমিও দেশের সেবায় নিয়োজিত হবো। নিজেকে দেশের জন্য তৈরি করবো। দেশের মানুষের জন্য নিজেকে গড়ে তুলবো।দেশ সেবার একটা লোভ ছোট্ট মনে বাস করতো সবসময়।
বড় হতে হতে তার রূপ রেখা বদলে যায়। যায় হোক,
তবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে চলছে অসুস্থ রাজনীতি।
তবে অসুস্থ রাজনীতি আমার ভালো লাগেনা। মানুষের মতামত গুলো ভিন্ন হবে!মানুষ জন্মগতভাবে ভিন্ন, চাহিদা ইচ্ছা, স্বপ্ন, সবগুলোই ভিন্ন, কথাবার্তা, আচার-আচরণ বৈশিষ্ট্য সবগুলো ভিন্ন, বিভিন্ন দল হবে! সবাই রাজনীতি করবে! কিন্তু তার ভিতরে হিংসার আগুন জ্বলবে কেন?কেন একজন মানুষকে সত্য তুলে ধরলে তাকে কেন জীবন দিতে হবে? অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে, প্রতিবাদ করলে ,বিচার চাইলে, তাকে কেন জীবন দিতে হবে? আমরা একই সমাজে একই দেশে বসবাস করি। একেক জন একেক দল করবে একেক দল সাপোর্ট করবে। প্রতিটি দলের আলাদা বৈশিষ্ট্য হবে।আলাদা নৈতিকতা থাকবে। সৃষ্টিগতভাবে মানুষ যেমন আলাদা, চাওয়া পাওয়া ইচ্ছা স্বপ্ন দূরদৃষ্টি সবকিছু আলাদা তেমনি মতবাদ গুলো হবে আলাদা ,।এখানে দোষের কিছু নাই। দোষ করলেই দোষী অপরাধ করলেই অপরাধী। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই আমরা অপরাধী ভাবি, সবাই দেশ দরদী জনদরদী হবে, সবাই দেশের কথা বলবে, জনগণের কথা বলবে, গরিব দুঃখীদের কথা বলবে,কিভাবে গরিব-দুঃখীরা খেতে পারবে, মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে, কিভাবে একজন বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করা যাবে, চারপাশের মানুষগুলো কিভাবে হাসিখুশি থাকবে, ভালো থাকবে, কিভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, কিভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করা যায়, কিভাবে চিকিৎসা উন্নতি করা যায়, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশে আনা যায়,কিভাবে দেশের সার্বভৌমের ভিত্তি মজবুত করা যায়, সামরিক শাসনে কিভাবে উন্নত করা যায়, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মজবুত করা যায়, গৃহহীন মানুষ গুলো কিভাবে সবাই বাসস্থান পাবে? নিরাপদে বাসস্থানে ঘুমাবে!বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন হবে! থাকবে না কোন কালোবাজারে। থাকবে না কোন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট! প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করবে! কিভাবে একজন অপরাধীর শাস্তি পাবে, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হতে পারবে না, আইন হবে সকল অপরাধীর জন্য সমান, একজন দেশের নাগরিক সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে, রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমান সুবিধা ভোগ করবে, দেশের ভিত্তি মজবুত করা যাবে, মানবিকতার কথা বলবে, কিভাবে দেশকে একটি সাফল্যমণ্ডিত করা যায়, বেকার মুক্ত করা যায়, সেই চিন্তা করবে, কিন্তু তা না। এখন দেখি হিংসার রাজনীতি, কিভাবে একজনকে গুম করা যায় খুন করা যায় একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া যায়, কেমন জানি একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কথা বলে, অথচ এরা সমাজে একে অপরের ভাই, একে অপরের প্রতিবেশী, ঘুম ভাঙলেসকাক হতে একে অপরের মুখ দেখাদেখি হয়। পাশের লোকটি মরে গেলে খাটিয়া নিয়ে গুরুস্তানে যায়। রাজনীতির খাতিরে আমরা একে অপরকে অপবাদ দেই! কিন্তু কেন? কেন এমন রাজনীতি হবে? কেন একজন রাজনীতি করতে পারলে, অন্যজন অন্য দল করতে পারবে না, কেন সবাইকে একই দলের সাপোর্টার হতে হবে, কেন ভিন্ন মত পোষণ করতে পারবেনা, অবশ্যই এটা ঠিক আছে যে, দশজন যেখানে হা বলবে, সেখানে হয়তো একজন না বলতেই পারে, দুজন না বলতেই পারে, তাই বলে সেটা ইস্যু হতে পারে না, সবার জ্ঞান সম পরিধি নয়, সবার চিন্তাধারাও কিন্তু এক নয়, প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে ভিন্ন মত পোষণ করবে। তার কথা শোনার ধৈর্য সবাইকে রাখতে হবে। তবেই না রাজনীতি।
আর এখন দেখি রাজনীতির মধ্যে কে কার পিছনে কত নোংরামি ট্যাগ দেওয়া যায়, কাকে কতটা ছোট করা যায়, কাকে হেই প্রতিপন্ন যায়, কত টাকা পকেটে ঢুকানো যায়, কতটাকা ব্যাংক ব্যালেন্স রিজাব করা যায়।গাড়ি বাড়ির মালিকানা হওয়া যায়। এই সব কিছু ই মনে হচ্ছে চিরকাল চিরন্তন হয়ে থাকবে।
যদি কেউ আসতো দেশ প্রেমিক,জনগণ প্রেমিক। যার লোভ শুধু দেশ আর দেশকে ভালবাসা । এমন একজন প্রতিনিধিত্ব করার মতো মানুষ চাই। যে স্বেচ্ছায় সেবায় নিয়োজিত হবে। দেশ ও দশের অলংকার হবে। লেখক : কবি কলামিস্ট












