চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. মছিউদ্দৌলা মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পরে গণসংযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মছিউদ্দৌলা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কিছু প্রার্থীর পক্ষে পেশীশক্তি, কালোটাকা ও ধর্মের অবাধ অপব্যবহার চলছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী-অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এ অবস্থায় ভোটের পরিবেশ নিয়ে জনমনে আশঙ্কা ও ভীতি তৈরি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি ফোরকান আবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুলাহ আল কাইয়ুম চৌধুরীসহ ৩০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আর প্রার্থী মছিউদ্দৌলার সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জামাল উদ্দিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, প্রবীণ কৃষক নেতা নুরুল মোস্তফা মেম্বার, উপজেলার নেতা মাহবুব উল আলম, শ্রমিক নেতা মো. আবু তাহের, যুবনেতা ইমরান চৌধুরী ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মছিউদ্দৌলা বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, অতীতের মতো নির্বাচনের মাঠ দখলে নিয়েছে কালো টাকাওয়ালা আর ধর্ম ব্যবসায়ীরা। তারা সাধারণ জনগণকে মুখরোচক নানা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির প্রলোভন দেখিয়ে এবং বেহেশতের টিকিটের লোভ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে। পেশীশক্তির দাপটে কিছু প্রার্থী প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছে, অথচ নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার তথাকথিত সংস্কার আর হ্যাঁ-না গণভোটের প্রচারণায় ব্যস্ত আছে। অথচ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অনাগ্রহ ও ব্যর্থতায় ধীরে ধীরে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের আহ্বান, দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, লুটেরাগোষ্ঠী এবং ধর্মব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন। অন্যথায় গত তিনটি নির্বাচনের মতো আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচনের দায় আপনাদের বহন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সিপিবি প্রার্থী মো. মছিউদ্দৌলা নেতাকর্মীদের নিয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভা সদরের বিভিন্ন অলিগলিতে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিলি করেন। গণসংযোগে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, সীতাকুণ্ড একটি শ্রমিক, মেহনতি মানুষ অধ্যুষিত এলাকা। আমি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আছি। আমরা কমিউনিস্ট পার্টি গরীব, খেটে খাওয়া মানুষের রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র গড়ার জন্য সবাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কাস্তে প্রতীকে ভোট দিন। নিজেদের ভাগ্য বদল করতে চাইলে ব্যাংক লুটেরা, ধর্ম ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে প্রত্যাখান করুন।












