শফিউল আলম রাউজান: রাউজানে ভোটারদরে মধ্যে শংকা বিএনপি ইসলামি ফ্রন্ট জামায়েত গনসংহতি আন্দোলন নিজ নিজ প্রতিকে ভোট চেয়ে গনসংযোগ প্রচারণা চালালেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের আমেজ দেখা যাচ্ছে না। দেশে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তবে নির্বাচন যতই কাছে আসুক না কেন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ভোটের সেই স্বাভাবিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ এখনো অনুপস্থিত। বরং জনমনে বাড়ছে ভয় ও অনিশ্চয়তা।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চারজন প্রার্থী নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীরা রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এসব প্রচারণা নেতাকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শাহ জাহান মঞ্জু, মোমবাতি প্রতীক নিয়ে বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অধ্যক্ষ আল্লামা ইলিয়াছ নূরী এবং মাথাল প্রতীক নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) প্রার্থী নাছির উদ্দিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও প্রকাশ্যে তা জানাতে অনেকে অনিচ্ছুক।জনসাধারণের তথ্যমতে, গত ১৮ মাসে রাউজানে ১৯টি হত্যাকাণ্ড ও ৩২টি গোলাগুলির ঘটনায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একের পর এক সহিংস ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ। এই সহিংসতার প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী পরিবেশেও। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিকুল আলম বলেন, “একটির পর একটি হত্যাকাণ্ড ও গোলাগুলির ঘটনায় মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। ভয় নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েই সবাই চিন্তিত।” কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো.সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রধারীদের ছবি ছড়িয়ে পড়লেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।”
নির্বাচন অফিসের সূত্রে জানায়, রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭জন নারী ভোটার মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮জন। ৯৫টি ভোটকেন্দ্রের ভোটকক্ষ রয়েছে ৬৩৯টি।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানান, উপজেলায় মোট ৯৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।












