রাউজানে খাল ভরাট, শুস্ক মৌসুমে সেচ সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়

শফিউল আলম, রাউজান: ফটিকছড়ি উপজেলার তকির হাটের দক্ষিণ পাশে রাউজান উপজেলার ১৫ নং নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকা। পাহাড়ী এলাকা থেকে আসা হাতিজোড়া খাল ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর, জাফত নগর, আবদুল্ল্রাহ পুর হয়ে রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর, উত্তর ফতেহ নগর, নদীম পুর হয়ে হালদা নদীর সাথে সংযুক্ত হয়েছেন।

এক সময়ে শুস্ক মৌসুমে হাতিজোড়া খালের পানি সেচের মাধ্যামে ব্যবহার করে কৃষকরা বোরো ধানের চাষাবাদ সব্জি ক্ষেতের চাষাবাদ করতো। বর্ষার মৌসুমে প্রবল বর্ষণ হলে পাহাড়ী ঢলের স্রোতের পানি নেমে আসলে হাতিজোড়া খাল দিয়ে নেমে হালদা নদীতে যেতো। হাতিজোড়া খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুস্ক মৌসুমে সেচ সংকট সৃষ্টি হয়ে বোরো ধান সবজি ক্ষেত করতে পারছে না এলাকার কৃষকরা। হাতিজোড়া খালের একাংশ গহিরা হেয়াকো (অদদু চৌধুরী) সড়কের পাশে পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকায় ভরাট করে পল্লী কানন নামে একটি কমিনিউটি সেন্টার নির্মান করেন ফটিকছড়ি এলাকার এক ব্যক্তি। খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণ করায় বর্ষার মৌসুমে খাল দিয়ে পাহাড়ী ঢলের স্রোতের পানি প্রবাহিত হতে বাধার সৃষ্টি হয় বলে এলকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের স্রোতের পানি প্রবাহিত হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতায় পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকায় সড়ক, ফসলী জমি এলাকার বাসিন্দাদের ঘর-বাড়ি পানিতে ডুবে যায় কয়েক বৎসর ধরে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কৃষক, এলাকার বাসিন্দা সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের। হতিজোড়া খালটি গত কয়েক বৎসর পূর্বে খনন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ‍উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসির অর্থায়নে খাল খনন করার সময়ে খাল খনন করা মাটি দিয়ে খালের পাড় না বেধে খালা কাটা মাটি কৃষি জমি ভরাট, পুকুর জলাশয় ভরাট কাজে বিক্রয় করেন বলে এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। খাল খনন করা মাটি দিয়ে খালের পাড় না বাধায় বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের স্রোতের পানিতে ফসলী জমি সহ ঘরবাড়ী ডুবে যায়। এছাড়া ও বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের স্রোতে ফসলী জমি ভেঙ্গে পড়ে হাতিজোড়া খাল ভরাট হয়ে গেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসির রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, খালটি খনন করা হয়েছে কয়েক বৎসর পূর্বে। খাল ভরাট হওয়ায় পুনরায় হাতিজোড়া খাল খনন করার জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।