হলুদ দুধ পানের এই ৭ উপকারের কথা জানেন না অনেকেই

সব ঋতুতেই হলুদ দুধ খাওয়ার রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। তবে শীতে ঋতু পরিবর্তনের ঠান্ডা আবহাওয়ায় নানা রোগের প্রকোপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে নিয়মিত হলুদ দুধ খাওয়ায় অভ্যাসের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজ তাক বাংলার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শীতের সেরা পানীয় হিসেবে হলুদ দুধকে গণ্য করা হয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর অসংখ্য উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। আসুন তা একে একে জেনে নিই-

১। চিকিৎসকরা প্রদাহ প্রশমিত করতে কাঁচা হলুদ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
২। দুধে এক টুকরো কাঁচা হলুদের ব্যবহার হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে।
৩। কাঁচা হলুদে এমন কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরে ক্যানসার সেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
৪। যদি ভুলে যাওয়ার সমস্যা থাকে কিংবা স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে তবে নিয়মিত কাঁচা হলুদ দিয়ে দৈরি দুধ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
৫। মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে হলুদ দুধ।
৬। মেটাবলিজমের হার বাড়ায় হলুদ দুধ। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা এ পানীয়ের ওপর ভরসা রাখতে পারেন।
৭। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও বয়সের ছাপ, বলিরেখা রুখে দিতেও দারুণ কাজ করে হলুদ দুধ।
৮। লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হলুদ দুধ। এছাড়া শরীরে আলসার বা ঘায়ের প্রবণতা থাকলে তার প্রতিরোধ করে। অ্যাসিডিটির সমস্যাও দূর করে।
৯। হলুদ দুধ সর্দি কাশি দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন সি সর্দি কাশির মতো সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১০। হলুদ দুধে দুটি কালো গোলমরিচ যোগ করলে তা গলা ব্যথা ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।
১১। থাইরডের সমস্যা কমাতে হলুদ দুধে দুটি কাজু বাদাম যোগ করতে পারেন।
১২। হলুদের কারকিউমিন উপাদান শরীরের ফোলাভাব, ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কাজ করতে পারে। হাড়ের স্বাস্থ্য মজবুত করে।
১৩। হলুদ দুধে মধু ব্যবহার করলে এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে কোষকে পুনরুদ্ধার ও উজ্জীবিত করে।
১৪। হলুদ দুধ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত সহায়ক। এটি লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম এবং রক্তনালী পরিষ্কার করে।

যেভাবে তৈরি করবেন: একটি সসপ্যানে দুটি ছোট এলাচ, ছোট এক টুকরো দারুচিনি, একটি তেজপাতা ছিঁড়ে দিন। এবার তাতে দুধ ঢেলে মিডিয়াম আঁচে গরম করে নিন। দুইবার বলক এলেই তা চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।

এবার এক গ্লাস গরম দুধে মিশিয়ে নিন ১/২ চামচ কাঁচা হলুদ পেস্ট, ১ চামচ মধু, ২টি কাজু বাদামের পেস্ট, পরিমাণমতো লবণ।

সকালের কিংবা বিকেলের নাশতায় হলুদ দুধ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। শীতের এ সময়টাই হলুদ দুধ খাওয়ার উপযুক্ত সময়। চার সপ্তাহ টানা খেলে তবেই হাতেনাতে ফল পাবেন। তবে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।