ভাইকে খুনের ঘটনায় ঘাতক ভাইসহ তিনজন কারাগারে

  শফিউল আলম,রাউজানঃচট্টগ্রামের রাউজানে আপন বড় ভাই সোনা মিয়ার হাতে ছোট ভাই সোহাগ খুন হওয়ার ঘটনার মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে নিহত সোহাগের স্ত্রী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন।মামলা নং- ৭/৮২, ধারা- ৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২/৪২৭/৩৪। গত ১৫ মে বুধবার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খানপাড়া গ্রামের মমতাজ মিয়া সওদাগর প্রকাশ নানা মমতাজের বাড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ মিয়ার স্ত্রী গুলিয়ানার আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে সোনা মিয়া ও স্ত্রী ছেলেরা আমার চোখের সামনে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চায়। আমি আমার দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে কিভাবে থাকব।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত সোনা মিয়ার সঙ্গে তাঁর সৎ ভাই সাহাবুউদ্দিনসহ ভাইয়ের মধ্যে পৈত্রিক জায়গা-সম্পত্তির নিয়ে বিরোধ চলছিলো। এই বিরোধের জের ধরে আদালতে সিআর মামলা নং-১৩৬/২৩ (রাউজান) বিচারাধীন রয়েছে। গত ১৫ মে বুধবার আদালতে মামলাটির শুনানি শেষে বাড়ি ফিরে সোনা মিয়ার পরিবার সোহাগ সন্দেহ করে গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্য ঝগড়া লাগে। এসময় বড় ভাই সোনা মিয়া, তার স্ত্রী ও ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে সোহাগকে আঘাত করতে থাকে।সোহাগ বাঁচার জন্য পার্শ্বে সৎ ভাই সাহেদ এর ঘরে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন তাঁর সাহেদ এর ঘরে ঢুকে তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সোহাগের ঘাড়ে ও বাহুতে কোপাইয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই অজয় দেব শীল জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন নিহত স্ত্রী গুলিয়ানারা আক্তার। এই মামলা নিহতের বড় ভাই সোনা মিয়া, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তার দুই ছেলে মো. তারেক সহ চারজনকে আসামী করা হয়। তাদের মধ্যে নিহতের বড় ভাই সোনা মিয়া, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তার দুই ছেলে মো. তারেককে আটক করার পর গতকাল ১৭ মে শুক্রবার তাদেরকে আদালতে সোর্পদ করেন পুলিশ ।