ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ নারীর মৃত্যু, স্থানীয়দের দাবি বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতি

শওকত হোসেন করিম, ফটিকছড়ি : ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ছাবা খাতুন নামে এক নামের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতির কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩মে) বিকাল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভাধীন ৯ নং ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং গ্রামের কাসেম ডাক্তার বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। নিহত ছাবা খাতুন (৫৫) এক মেয়ে সন্তানের জননী। তার স্বামী মোহাম্মদ কালো।
নিহতের আত্মীয় ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টায় নিহত ছাবা খাতুন এর বাড়ির পিছনে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি হতে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়ে মাটিতে। এর ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর স্থানীয় সরোয়ার নামে এক যুবক ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলেন, বিদ্যুতের তার ছিড়ে মাটিতে পড়ে আছে , আপনারা তার মেরামত করে দিন। এরপরে মোবারক নামের আরেক যুবক বিদ্যুৎ অফিসে কল দিলে, কল রিসিভ করে বলেন আপনাদের অভিযোগ পেয়েছি আমাদের লোক যাবে। ওই দিন বিকাল ৫টায় দিকে নিহত ছাবা খাতুন গরুর ঘাস কাটতে গেলে, ওই বিদ্যুতের ছিড়ে তার সাথে জড়িয়ে যায় ছাবা খাতুন। ওইখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্থানীয়রা লাশটা উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, আমাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোক দ্রুত কাজ করলেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনরা দাবি জানান ওই মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায়ভার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কে নিতে হবে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিড়া তার মেরামত করতে বিদ্যুৎ অফিসের কোন লোক যায়নি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ফটিকছড়ি জোনাল) অফিসের এজিএম মোহাম্মদ আজহারুল হক বলেন, বিদ্যুতের তার মাটিতে পড়ে আছে আমরা ওই ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি।
ফটিকছড়ি থানার (ওসি) অফিসার ইনচার্জ মীর মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, নিহতের বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।