উখিয়া-টেকনাফের মানুষের জন্য আমার জীবন বিলিয়ে দেব: অধ্যক্ষ আনোয়ারী

‎উখিয়া-টেকনাফ আসনে জামায়াত জোট প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা করে বলেন-অতীতে উখিয়া-টেকনাফে যারা ক্ষমতায় এসেছে সবাই দূর্নীতি করেছে। কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। আমরা ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত জনপদের এই আসনে হবে না কোন অনিয়ম-দূর্নীতি আর ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট। ন্যায় বিচার ও মানুষের উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২টায় টেকনাফের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী আরো বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম টেকনাফের স্থলবন্দর, শাহপরীরদ্বীপের করিডোর, টেকনাফ পৌরসভাকে আধুনিকায়ন, টেকনাফে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ, নাফ নদী, টেকনাফ কলেজে অনার্স কোর্স চালু, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ, টেকনাফে মহিলা কলেজ স্থাপন, দমদমিয়া-সেন্টমার্টিন ঘাট চালু, খাস জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরকারীকরণ করা হবে, টেকনাফে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন, ট্যুরিজম পার্ক চালু করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া মিথ্যা মামলা থেকে হয়রানি, মাদক ও অপহরণ বন্ধে পদক্ষেপ নেব। এক বছরের মধ্যেই উখিয়া-টেকনাফের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।”

‎তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান। জন্ম থেকেই আপনাদের সাথে এই এলাকাতেই আছি। ২২ বছর ধরে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন তথা আপনাদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে এই জনপদে শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও উখিয়া-টেকনাফের মানুষের অধিকার আদায় এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।

‎তিনি বলেন, রাজনীতিকে আমি ক্ষমতা মনে করি না। বরং জনগণের সেবা করার একটি মাধ্যম হিসেবেই মনে করি। আমি আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হলে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের প্রত্যেক এলাকাকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও উন্নয়নসমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করতে কাজ করে যাব। উন্নয়নের জন্য সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব অপরিহার্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান ভোট কামনা করছি।

‎প্রধান অতিথি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, উখিয়া-টেকনাফ সিন্ডিকেটমুক্ত হবে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের মাধ্যমে। এবার সুযোগ এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশাসকদের বিতাড়িত করার জন্য। তাহলে নতুন নেতৃত্বে উন্নয়ন আর সু-শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে সীমান্ত শহরের এই আসনে।

‎১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় হাজার হাজার জনতার ঢল নামে।

‎এসময় মিছিলজুড়ে ছিল অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে স্লোগানে মুখরিত হলে এক জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয় পুরো টেকনাফ শহর। মিছিল পরবর্তী নির্বাচনী জনসভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী সরওয়ার কামাল সিকদার ও টেকনাফ পৌর জামায়াতের সভাপতি রবিউল আলমের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, (অনলাইনে) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল ছিবগাতুল্লাহ ছিবগা, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারী এডভোকেট একেএম শাহজালাল চৌধুরী, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, শাহপুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোছাইন ছিদ্দিকী, টেকনাফ পৌরসভার সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র মোহাম্মদ ইসমাঈল।

‎বক্তব্য রাখেন, এডভোকেট ছৈয়দুল ইসলাম সাঈদ, ব্যাংকার মোহাম্মদ আলী, এডভোকেট রশিদ আহমদ, এডভোকেট দিদারুল মোস্তফা, চট্টগ্রামের ছাত্র সমন্বয়ক সাদিক আরমান, ছাত্রশক্তি কক্সবাজার জেলার মূখ্য সমন্বয়ক আসফিক রহমান, উখিয়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রিদুয়ানুল হক জিসান, টেকনাফ উপজেলা শিবিরের সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ তারেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন, টেকনাফ সদরের সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মো: ছিদ্দিকুর রহমান, এডভোকেট আব্দুল আমিন, মাওলানা আজিজুল হক, এনসিপির কক্সবাজার জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কক্সবাজার জেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা সিরাজুল মোস্তফা, টেকনাফ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা ফোরকান আহমদ, উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফজল, আবু আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, মনপু চাকমা, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম নূরী, এনসিপি কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, খেলাফত মজলিস কক্সবাজার জেলা শাখার সহস়ভাপতি মাওলানা হাফেজ নুরুল্লাহ, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় শরনার্থী বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক শামসুল হক শারেক।

উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজারের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন রিয়া, জুনাইদ হোসাইন।

‎জনসভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ জনসমুদ্রে পরিনত হয়।