বিপর্যস্ত চকরিয়া : নির্মাণাধীন রেল লাইনে আটকা বৃষ্টির পানি

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

টানা একদিনের বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। নির্মাণাধীন রেল লাইনের পূর্বাংশজুড়ে আটকা পড়েছে কয়েকফুট উচ্চতায় বৃষ্টির পানি। পানি নেমে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় এই পানি ভাটির দিকে নামতে পারছে না। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির রোপিত ফসল। এ ক্ষেত্রে রেল লাইনের নির্মাণাধীন রাস্তাকেই প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে লাগাতার এই বর্ষণে পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে টইটম্বুর করছে পানি।

এ দিকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ও পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে চকরিয়া উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মাঝে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বর্ষা মওসুম শুরুর প্রথমেই লাগাতার বর্ষণে চকরিয়াবাসীর জন্য গলার কাটা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে দোহাজারি-কক্সবাজার পর্যন্ত বাস্তবায়ন হতে যাওয়া রেল লাইনের নির্মাণাধীন উঁচু রাস্তাটি। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার এই রেল লাইনের রাস্তার পূর্বাংশজুড়ে বর্তমানে আটকা পড়েছে কয়েক ফুট উচ্চতায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি। এই অবস্থায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো পরিবারের মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়নের বেশি সমস্যা করছে রেল লাইনের উঁচু রাস্তাটি। এই রাস্তার কারণেই ইউনিয়নের পর ইউনিয়নে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তার ওপর ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসলও।

মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা বলেন, অতি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। কারণ দোহাজারি টু কক্সবাজার এবং ফাঁসিয়াখালী টু মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ পর্যন্ত রেললাইন সড়কের বিশাল অংশ আমার ইউনিয়নে পড়েছে। এতে বৃষ্টির পানি নামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে রেল লাইনের উঁচু রাস্তা। তাই রেল লাইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগে এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে পানি যাতে ভাটির দিকে নামতে পারে সে জন্য ছোট ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা খুবই জরুরি। এ সব বিষয় জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ভারি বর্ষণ এবং মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সে জন্য উপকূলীয় এলাকার সব স্লুইস গেট দুই ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রেল লাইনের উঁচু রাস্তার কারণে যে সব এলাকায় পানি নামতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে বসে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি চলতি বর্ষা মওসুমেও যাতে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, এবারের বর্ষা মওসুমের শুরুতে টানা কয়েক ঘণ্টার ভারি বর্ষণে চারদিকে পানি জমে যাওয়ার ক্ষেত্রে রেল লাইনের নির্মিতব্য মাটির রাস্তাটিকে দায়ী করছেন মানুষ। এখনও যেহেতু রেল লাইন নির্মাণের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, সেহেতু কোথায় কী সমস্যা তা চিহ্নিত করার সুযোগ হয়েছে।

এমপি জাফর আলম বলেন, ভবিষ্যতে এই সমস্যা সমাধানকল্পে এলাকাভিত্তিক পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে কালভার্ট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে উপকূলীয় এলাকার স্লুইস গেটগুলো খুলে দিতে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।