কক্সবাজারে বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারিতে কোরবানির হাট: জেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী ৯টি পশুর হাটে চলবে কেনাবেচা
এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার: পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। থাকবে জেলার পশুর হাটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি। জেলার ৪৮টি স্থায়ী বাজারের সাথে যুক্ত হচ্ছে ৫০টি অস্থায়ী পশু বাজার, মোট ৯৮টি পশুর হাটে চলবে কেনাবেচা। থাকবে নিরাপত্তায় বিশেষ পুলিশ টিম, রাখা হবে জালনোট সনাক্তকরণ মেশিন।
উপজেলা ভিত্তিক অনুমোদিত বাজারের সংখ্যা হলো সদরে ১৪টি, রামুতে ১৪টি, চকরিয়ায় ২২টি, পেকুয়ায় ৮টি, উখিয়ায় ৮টি, টেকনাফে ৯টি, মহেশখালীতে ৬টি, কুতুবদিয়ায় ৬টি রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে বাজারের সংখ্যা শতাধিক বলে জানা গেছে।

এদিকে সদরে ১৪টি কোরবানের পশুর হাট ইজারা হলেও প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্যমতে পশুর হাট বসছে ৭টি।
কক্সবাজারের জেলাপ্রশাসক আবদুল মান্নান জানান, পশুর হাট গুলোতে সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ টিম, সাজা পোশাকের টিম, হাইওয়ে পুলিশের টিম, জাল টাকা সনাক্তকরণে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তার নেতৃত্বে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন, পশুর চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক থাকবে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে যেন বাজার বসানো না হয়, যদি বসানোর প্রয়োজন পড়ে তাহলে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দেয়া হয়।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেক বাজারে মিয়ানমারের গরু মহিষ আসতে দেখা গেছে।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম -লামা, ঘুমধুম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে অবৈধভাবে আসা গবাদি পশু গুলো বিশেষ করে চকরিয়ার মানিকপুর বাজার, ফাঁসিয়াখালীর হাঁসের দীঘি ও ডুলাহাজারার রংমহল, জেয়ারিয়ানালা, গর্জনিয়া ও উদগড় এলাকায়। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার গবাদি পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার পশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের ৮ হাজার ২৮৭টি খামারে বর্তমানে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে জেলায় পশুর মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯২টি। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ হাজার ৭৭টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪টি গরু, ৬ হাজার ২৭৯টি মহিষ এবং বাকিগুলো ছাগল ও ভেড়া।
স্থানীয় খামারি আব্দুর রফিক বলেন, এই পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা সারা বছর ধরে অপেক্ষা করি দ্রব্যমূল্যের উদ্যগতিতে ও আমরা পশু পালনে পিছপা হয় না। একেতো এবার চাহিদার চেয়ে পশুবেশি তার উপর বার্মায়া গুরু আসছে তা যদি হয় আমরা খামারিরা মাঠে মারা যাব। এদিকে প্রশাসনের বিশেষ নজরদেয়া প্রয়োজন।












