জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এ সময় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শ্রম আইন সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। বৈঠকে তারা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, জাতীয় সংসদের অধিবেশন ও ঐতিহাসিক সংসদ ভবন নিয়ে আলোচনা করেন।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় পাশে থেকেছে। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের অন্যতম বড় বাজার হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল আইটি খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে প্রযুক্তিতে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পাশে থাকবে এবং বড় ধরনের সহযোগিতা করবে।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার প্রান্তিক জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষি ঋণ মওকুফসহ নানা ধরনের যুগান্তকারী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোর সফল বাস্তবায়নে দেশের গণতন্ত্রের যাত্রা মসৃণ হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই প্রকৃত উন্নয়ন করা সম্ভব নয় এবং সংসদই হলো সেই গণতন্ত্রের মূল প্রাণকেন্দ্র। এই প্রসঙ্গে সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং জানান যে বাংলাদেশের জনগণ তাকে সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখে।
মার্কিন মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনকে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মার্কিন স্থাপত্যের ছাত্ররা প্রায়ই এই অনন্য ভবনটি দেখার ইচ্ছা পোষণ করে, কারণ এটি লুই কানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সম্মান জানায়।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করে জানায়, এই পদক্ষেপটিকে ওয়াশিংটনে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। এ সময় দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় দুর্নীতি দমন, পরিবেশ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলার জন্য আগামী ৫ বছরে ৯০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তার কথাও প্রতিনিধি দল বিশেষভাবে উল্লেখ করে।
গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশ একটি বন্ধুপ্রতিম গণতান্ত্রিক দেশ। এখানকার চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো আগামীতে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে। দুই দেশের মধ্যকার এই গভীর সম্পর্ক কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং টেকসই হবে।












